পোপ হবেন কে, তা নিয়ে যখন ‘যুদ্ধ’ লাগে!

কনক্লেভ চলচ্চিত্রে রেফ ফাইনস। ছবি: সংগৃহীত

ত্রস্ত পায়ে একজন হাঁটছেন। ‘হাঁটছেন’ বলাটা বোধহয় একটু ভুলই হচ্ছে। ছুটছেন বলাটাই বরং খানিকটা মেলে। কেন, সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় একটু পরেই। জানা যায়, পোপ মারা গেছেন। এবার শুরু হবে নতুন পোপ নির্বাচনের প্রক্রিয়া। আর তার ঠিক পরই যেন শোনা গেল এক ‘অদৃশ্য যুদ্ধ’ শুরুর শিঙাধ্বনি!

কার্ডিনালদের নিয়ে নতুন পোপ নির্বাচনের যে বিশেষ কর্মপ্রক্রিয়া, সেটিরই পোশাকি নাম ‘কনক্লেভ’। এই নামেই তৈরি হয়েছে একটি ইংরেজিভাষী সিনেমা। পরিচালনা করেছেন এডওয়ার্ড বারগার। মূলত রবার্ট হ্যারিসের উপন্যাস অবলম্বনেই তৈরি করা হয়েছে ‘কনক্লেভ’। অভিনয় করেছেন রেফ ফাইনস, স্ট্যানলি ট্যুচি, জন লিথগো প্রমুখ। সাম্প্রতিক সময়েই আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। তবে এর আগে বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে এটি। বর্তমানে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম অ্যাপল টিভি প্লাসেও দেখা যাচ্ছে ‘কনক্লেভ’। 

একটি দৃশ্যে স্ট্যানলি ট্যুচি ও রেফ ফাইনস। ছবি: সংগৃহীত

শুরুতেই জানা হয়ে গেছে, পোপের হঠাৎ মৃত্যুর পরের ঘটনাবলী নিয়ে সাজানো হয়েছে গল্প। এরপর ধীরে ধীরে কনক্লেভ আয়োজনের কাজ এগিয়ে যেতে থাকে। কার্ডিনাল ডিন থমাস লরেন্স সব আয়োজনের মধ্যমণি। মূলত তারই নেতৃত্বে কনক্লেভের আয়োজন শুরু হয় এবং এগিয়ে যায়। কলেজ অব কার্ডিনালসের বাকি সব সদস্য একে একে জড়ো হতে থাকেন। এবং সেই সাথে ক্রমে প্রকাশিত হতে থাকে পোপ হওয়ার ইঁদুরদৌড়ের বিষয়টি। কার্ডিনালদের কেউ কেউ প্রকাশ্যেই জানাতে থাকেন পোপ হওয়ার বাসনা। এ নিয়ে কার্ডিনালদের মধ্যকার দলাদলির বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠে। তবে মূল সমস্যাটি তখন তৈরি হয়, যখন একজন ‘অজ্ঞাত’ কার্ডিনাল উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো করে উপস্থিত হন কনক্লেভে। বেরিয়ে আসে তাঁকে গোপনে কার্ডিনাল বানানোর খবর। সেই সঙ্গে পোপ হওয়ার দৌড়ে থাকা দুজন কার্ডিনালের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেচ্ছাও বেরিয়ে আসে। আর এসব কেচ্ছা বের করতে হয় কনক্লেভ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ডিন থমাস লরেন্সকেই। সব মিলিয়ে কনক্লেভের পরিবেশ পুরোপুরি অস্থির হয়ে পড়ে। তাহলে কে হবেন পোপ?

সিনেমাটির চিত্রনাট্য বেশ সুশৃঙ্খল ও পরিপাটি। সেই সঙ্গে মানানসই আবহসংগীত। সিনেমাটোগ্রাফি ছিল দুর্দান্ত। বিশেষ করে ভ্যাটিকানের ভেতরের আবহকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দারুণভাবে। সংলাপের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। সংলাপে শব্দের ব্যবহার ও বাক্যের গঠন এমন রাখা হয়েছে যে, যেকোনো দর্শকের মনোযোগ কেড়ে নিতে বাধ্য।

কনক্লেভ দৃশ্যে ইসাবেলা রোসেলিনি। ছবি: সংগৃহীত

এবার আসা যাক, সংলাপ যারা বলেছেন, সেই অভিনয়শিল্পীদের প্রসঙ্গে। কার্ডিনাল ডিন থমাস লরেন্সের ভূমিকায় ছিলেন রেফ ফাইনস। মূলত তাঁর চরিত্রটিকে কেন্দ্র করেই এই ছবির সব কাহিনি এগিয়েছে। এক কথায়, নিজের চরিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন তিনি। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে থাকা এক কার্ডিনালকে নিখুঁতভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন রেফ ফাইনস। এর বাইরে কার্ডিনাল বেলিনির চরিত্রে স্ট্যানলি ট্যুচি দারুণ সঙ্গত দিয়েছেন রেফকে। এই দুজন যখনই জুটি বেঁধে পর্দায় হাজির হয়েছেন, তখনই দর্শকেরা উপহার হিসেবে পেয়েছেন কিছু উপভোগ্য মুহূর্ত। 

সিনেমাটি শুরুর দিকে কিছু ধীর লয়ে এগোয় বটে। তবে সময় যত গড়ায়, ততই যেন রোমাঞ্চের মাত্রা বাড়ে। আর শেষের দিকে এমন এক টুইস্ট এসে হাজির হয়, যাতে চমকে ওঠা ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। 

এক কথায়, ‘কনক্লেভ’ সিনেমাটি পরিণত দর্শকদের জন্য। কেবলই কিছু সময় ভালোভাবে কাটানোর জন্য যারা সিনেমা দেখেন, তাঁদের জন্য এই ছবি নয়। বরং যারা একটি সিনেমার গল্পকে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে চান এবং তা নিয়ে ছবি শেষ হওয়ার পরও ভাবতে চান কিছুক্ষণ, তাঁদের জন্যই উত্তম ‘কনক্লেভ’। ছবির শেষটায় এমন এক সত্যের উন্মোচন হয়, যা জাতি‑ধর্ম‑লিঙ্গ‑বর্ণের বেড়াজাল পেরিয়ে দর্শকদের সন্ধান দেয় এক ভিন্ন পৃথিবীর। যেখানে ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’!

রেটিং: ৪.৫০/৫.০০
পরিচালক: এডওয়ার্ড বারগার
চিত্রনাট্য: পিটার স্ট্রোওয়ান
অভিনয়শিল্পী: রেফ ফাইনস, স্ট্যানলি ট্যুচি, জন লিথগো, ইসাবেলা রোসেলিনি প্রমুখ 
ভাষা: ইংরেজি
ধরন: ড্রামা, থ্রিলার
মুক্তি: ২৬ নভেম্বর ২০২৪/অ্যাপল টিভি প্লাস