গুলশানে হোলি আর্টিজান হামলার ঘটনাকে উপজীব্য করে নির্মিত চলচ্চিত্রটি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন আশঙ্কায় ৬ বছর আগে ‘শনিবার বিকেল’ আটকে দেয় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সেন্সর বোর্ড।
এর পরে বিভিন্ন সময়ে কেবল ফারুকী নন, সিনেমাটির মুক্তির দাবিতে একাট্টা হয়েছিলেন দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের নানা বয়সী মানুষ। এখন রাজনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, ফারুকী নিজে সরকারে থাকার পরও ‘শনিবার বিকেল’ কেন আলোর মুখ দেখল না?
এবার ফারুকী জানালেন, সিনেমাটি নাকি তাঁর আর মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছে নাই! তাই আসছে না শনিবার বিকেল। গুলশান হামলার ঘটনাকে উপজীব্য করে নির্মিত আলোচিত চলচ্চিত্রটির মুক্তি প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে ফারুকী জানান, গত দেড় বছর ধরে অনেকেই তাঁকে প্রশ্ন করেছেন যে, কেন তিনি ছবিটি মুক্তি দিচ্ছেন না। তাঁর ভাষায়, প্রশ্নের ভেতরে এমন ইঙ্গিত থাকে যেন তিনি উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। তবে বিষয়টি তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন।
ফারুকীর মতে ছবিটি ইতিমধ্যে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভ-এ মুক্তি পাওয়ার পর হাজার হাজার অনলাইন লিংক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে যাঁদের দেখার আগ্রহ ছিল, তাঁরা ইতিমধ্যে দেখে ফেলেছেন; আর কেউ দেখতে চাইলে অনলাইনেই সহজে দেখতে পারেন। নির্মাতার মতে, অনলাইনে সহজলভ্য একটি সিনেমা হলে মুক্তি দেওয়ার দাবি বাস্তবসম্মত নয়—বিশেষ করে বাংলাদেশের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায়।
বলেন, ‘‘অনলাইনে অ্যাভেইলেবল একটা ছবি সিনেমা হলে কেন মুক্তি দিচ্ছেন না, এই দাবি একমাত্র তারাই করতে পারেন যারা সিনেমা ব্যবসার সাথে জড়িত না। বাংলাদেশের বাজারে একটা সুপারহিট ছবিও ডিস্ট্রিবিউশন খরচ বাদ দিলে কত টাকা আয় করে—এটা অন্দরমহলের লোক জানে। যেমন, আমাকে কিন্তু এনারা কেউ বলবেন না, ‘ব্যাচেলর’ সিনেমা হলে এখন মুক্তি দিচ্ছেন না কেন? বিকজ দেয়ার ইজ নো বিজনেস লেফট (কারণ এতে ব্যবসার কিছু নেই)। ’’
আরও যোগ করে তিনি বলেন, ‘যারা কল্পনায় অনেক কিছু ভাবতে আনন্দ পাচ্ছেন তাদের উদ্দেশে আমার ছোট মন্তব্য, আমি আমার বানানো সকল ছবিই ওউন (ধারণ) করি। আগের মতোই ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক (জ্বি, ওটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ) যেকোনো উগ্রবাদ নিয়ে ছবিও করব। শিল্পীর ধর্মীয় উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলতে যেমন সংকট থাকার কথা না, তেমনি চেতনার নামে শতশত মানুষ গুম-খুনের বিরুদ্ধে কথা বলতেও সংকট থাকার কথা না।’
অন্যদিকে, সেন্সর বোর্ড বিলুপ্ত হয়ে ‘সার্টিফিকেশন বোর্ড’ গঠন করা হয়েছে। সেই বোর্ড থেকে সনদ পেয়েছে ১২০টির বেশি চলচ্চিত্র। কিন্তু ফারুকীর আলোচিত সিনেমা শনিবার বিকেল’র মুক্তি নিয়ে কোনো তথ্য সংশ্লিষ্টদের কাছে নেই।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর মহড়ার পর ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি শুরু হয় শনিবার বিকেল সিনেমার দৃশ্য ধারণের কাজ। টানা ১৫ দিন মহড়ায় মাত্র সাত দিনেই শেষ হয় শুটিং। বাংলাদেশ-ভারত-জার্মান—এই তিন দেশের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে শনিবার বিকেল।
বাংলা ছাড়াও ইংরেজি ভাষায় এ সিনেমা ভাষান্তর করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে জাহিদ হাসান, নুসরাত ইমরোজ তিশা, ইরেশ যাকের এবং দুই বিদেশি অভিনেতা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও ফিলিস্তিনের ইয়াদ হুরানি অভিনয় করেছেন।