থিয়েটারে ৫০ পেরিয়ে আসাদুজ্জামান নূর

‘দর্শক মন-প্রাণ দিয়ে নাটক দেখতেন, সেই সময়টাকে খুব মিস করি’

বরেণ্য অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর। থিয়েটারে তাঁর ৫০ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৭২ সালে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের ‘তৈল সংকট’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ের শুরু এ অভিনেতার। ৫০ বছর পেরিয়ে আজও তিনি সমান তালে বিচরণ করছেন মঞ্চ, টিভি নাটক ও সিনেমার রূপালি পর্দায়। 

যদিও আগের তুলনায় সেইভাবে তাঁকে পাওয়া যায় না অভিনয়ে। বিশেষ কিছু হলেই থিয়েটার কিংবা সিনেমায় দেখা যায় তাঁকে। আসাদুজ্জামান নূরের ভাষ্যমতে, ভালো স্ক্রিপ্ট না পেলে, চরিত্র মনের মতো না হলে তিনি অভিনয় করেন না। থিয়েটারে ৫০ পেরিয়ে আসাদুজ্জামান নূর বললেন, ‘অভিনয় করতে তো ভালো লাগে। তবে নিয়মিত করা একটু কঠিনই বটে। একটা সময় ছিল যখন প্রবল ইচ্ছে ছিল সিনেমাতে অভিনয় করার। কিন্তু আমার মতো যারা ছিলেন তাদের আসলে সিনেমাতে অভিনয় করার সুযোগ ছিল না। ফরীদি কমার্শিয়াল সিনেমাতে যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু তার মতো করে দাঁড়াতে পারেনি। এখন কমার্শিয়াল সিনেমায় পরিচ্ছন্নতা রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

রিমান্ড নাটকের একটি দৃশ্যে আসাদুজ্জামান নূর (বাঁয়ে), স্থিরচিত্রটি ফেসবুক থেকে নেওয়াদীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহু মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর। তবে মঞ্চ নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন মাত্র দুটি। একটি ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’ ও অন্যটি ‘মোহনগরী’।
‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’ মঞ্চে তিন শতাধিকবার মঞ্চায়িত হয়েছে বলে জানান অভিনেতা। কিছুদিন আগেও তিনি ‘রিমান্ড’ নামের একটি মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছেন। এটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশীষ সিনহা। এতে একজন গোয়েন্দার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে আসাদুজ্জামান নূরকে। নাটকটি প্রযোজনা করেছে হৃৎমঞ্চ।

এদিকে, সম্প্রতি হাসান আজিজুল হকের প্রবন্ধ অবলম্বনে ‘একাত্তর : করতলে ছিন্নমাথা’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন আসাদুজ্জামান নূর। স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত এই অভিনেতা জানান, সিনেমাটির কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়ে যাবে। আগামী নির্বাচনের আগে আর নতুন কোনও কাজে তাঁকে দেখা যাবে না।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও নিজের বিকাশ ঘটিয়েছেন আসাদুজ্জামান নূর। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারেরর দাবীতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সঙ্গে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। ১৯৯৮ সালের মাঝামাঝি পর্যায়ে তিনি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। ২০১৩ সালের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতিবিদ নাকি অভিনেতা—কোনটিকে বেছে নেবেন? আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘জীবনের এই পর্যায়ে এসে আমি নিজেই কিন্তু মাঝে মাঝে ভাবি যে আসলে আমি কী! আমি কি শিল্পী, না-কি রাজনীতিবিদ না-কি সমাজসেবক। না-কি ব্যবসায়ী! তবে হ্যাঁ, অভিনয় করে কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমরা এমন একটা সময় পেয়েছি যখন একসঙ্গে একঝাঁক প্রতিভাবান মানুষ ছিল। একটা টিভিতে সীমাবদ্ধতা ছিল, দর্শকের আগ্রহ ছিল প্রবল। তারা মন-প্রাণ দিয়ে নাটক উপভোগ করত। সেই সময়টাকে খুব মিস করি।’