মায়ের কবরের পাশে সমাহিত হলেন হুমায়রা হিমু

লক্ষ্মীপুরে মায়ের কবরের পাশে সমাহিত হলেন প্রয়াত অভিনেত্রী হুমায়রা হিমু। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত ৮ টার দিকে পৌরসভার লামচরী জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এদিন বাদ জুমা রাজধানীর চ্যানেল আই চত্বরে হিমুর প্রথম জানাজা শেষে তাঁকে লক্ষ্মীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। দাফনের আগে অভিনয় শিল্পী সংঘের পক্ষ থেকে হুমায়রা হিমুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।  

হুমায়রা হিমুর মামা ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক মঈন উদ্দিন চৌধুরী কামরুল বলেন, ‘হিমুর বাবা-মা কেউই বেঁচে নেই। হিমু বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তার বাবা প্রকৌশলী সানা উল্লাহ গত আগস্ট মাসে মারা যান। তার মা শামীম আরা চৌধুরী ২০২০ সালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। হিমুর মরদেহ তার মায়ের কবরের পাশেই সমাহিত করা হয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৮১ সালে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার বাসিন্দা সানা উল্লাহর সঙ্গে হিমুর মায়ের বিয়ে হয়। হিমুর জন্মের পরেই তার বাবা-মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর থেকেই হিমুকে নিয়ে তার মা লক্ষ্মীপুরে থাকতেন। কখনও দাদার বাড়িতে যাওয়া হয়নি তার।’ 

জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের লামচরীতে হুমায়রা হিমুর নানা বাড়ি। সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা। একপর্যায়ে তাঁর পরিবার ঢাকায় চলে আসেন। লক্ষ্মীপুরে তাঁদের বাসা-বাড়ি কিছুই নেই। সেখানে গেলে নানা বাড়িতেই থাকতেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৫ সালের ২৩ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ারা হিমু। তিনি ইস্পাহানি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ইডেন মহিলা কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। 

মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে নাট্য জগতে প্রবেশ করেন হিমু। ‘ফ্রেঞ্চ’ নামক নাট্য দলের হয়ে তিনি অভিনয় করতেন। ২০১১ সালে ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে হুমায়রা হিমুর অভিষেক হয়। এর আগে ২০০৬ সালে প্রচারিত হয় তাঁর প্রথম টিভি নাটক ‘ছায়াবীথি’। একই বছর ‘পিআই (প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর)’ নামে একটি টিভি সিরিয়ালেও অভিনয় করেন তিনি। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘বাড়ি বাড়ি সারি সারি’, ‘হাউজফুল’ ও ‘গুলশান এভিনিউ’সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় নাটকে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।