সত্যজিৎ রায়ের ডাক নাম মানিক। জন্মের পর তাঁর নাম রাখা হয়েছিল প্রসাদ রায়। কিন্তু সে নাম ধোপে টেকেনি। দ্বিতীয় জন্মদিনে তাঁর নাম রাখা হয় সত্যজিৎ রায়। পরবর্তী সময়ে এই নামেই তিনি পরিচিতি পেয়েছেন।
মাত্র তিন বছর বয়সে বাবা সুকুমার রায়কে হারিয়েছিলেন সত্যজিৎ। মা সুপ্রভা দেবী বহুকষ্টে তাঁকে বড় করেন। বড় হয়ে সত্যজিৎ কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে যান অর্থনীতিতে পড়তে। যদিও চারুকলার প্রতি সবসময়েই ছিল তাঁর বিশেষ দুর্বলতা।
ক্যালিগ্রাফিতে বেশ দক্ষ ছিলেন সত্যজিৎ রায়। শুধু তা-ই নয়, তাঁর হাতে তৈরি হয়েছে চারটি রোমান ফন্ট। সেগুলো ডিজাইনে সত্যজিতের কৃতিত্ব ছিল। ভারতীয় মোটিফ ও ক্যালিগ্রাফি দিয়ে তৈরি সেই ফন্টগুলোর নাম—রে রোমান, রে বিজার, ড্যাফনিস ও হলিডে স্ক্রিপ্ট।
ভারতীয় চলচ্চিত্রে টিজারের প্রচলন শুরু সত্যজিতের হাত ধরে। তাঁর প্রথম ছবি ‘পথের পাঁচালী’ মুক্তির সময় একটি টিজারের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়। ভারতের সিনেমায় সেটাকেই প্রথম টিজার হিসেবে ধরা হয়।
‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ হলো সত্যজিৎ পরিচালিত প্রথম রঙিন সিনেমা। নিজের লেখা গল্প থেকেই এটির চিত্রনাট্য তৈরি করেছিলেন তিনি। ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬২ সালে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস ‘ঘরে বাইরে’ অবলম্বনে সিনেমা বানাতে চিত্রনাট্য প্রস্তুত করেছিলেন সত্যজিৎ। সেটা ১৯৪৮ সালের দিকে। হরিসাধন দাশের সঙ্গে যৌথভাবে সিনেমাটি করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু প্রযোজক চিত্রনাট্যের এক জায়গায় পরিবর্তন করতে বললে তাতে রাজি হননি সত্যজিৎ। ফলে ছবিটিও আর নির্মিত হয়নি।
২০২১ সালে পালিত হয় সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবার্ষিকী। এ সময় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে তাঁকে নিয়ে কলম ধরেন হলিউডের জীবন্ত কিংবদন্তি মার্টিন স্করসেসি। তিনি বললেন, ‘যদি সংক্ষিপ্ত করেও সিনেমার ইতিহাসকে দেখা হয়, তবে সত্যজিৎ রায় এমন একজন পরিচালক, যাঁকে আমাদের জানা প্রয়োজন, যাঁর সিনেমা আমাদের দেখা দরকার। বারবার দেখা দরকার, আর আমি দেখিও।’