গত মাসের শুরুর দিকে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এরপর থেকে উত্তাল কলকাতা।
এরমধ্যে আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের উদ্দেশে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকের ‘সরকারি বেতন, বোনাস নেওয়ার’ মন্তব্য দাবানল গতিতে ভাইরাল নেটপাড়ায়। চলছে অন্তহীন কাটাছেঁড়া। যার জেরে সুদীপ্তা চক্রবর্তীও বন্ধু কাঞ্চনকে ‘ত্যাজ্য’ করার কথা ঘোষণা দিয়েছেন। নিন্দায় সরব হয়েছেন ঋদ্ধি সেন, ঋত্বিক চক্রবর্তী, বিদীপ্তা চক্রবর্তীসহ আরও অনেকেই।
কর্মবিরতিতে থাকা চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূলের বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক বলেছিলেন, ‘সরকারি বেতন-বোনাস নেবেন তো?’ আর এতেই ক্ষুব্ধ কাঞ্চনের সহশিল্পী ও সাধারণ মানুষ।
অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীর সঙ্গে অনেক কাজ করেছেন কাঞ্চন মল্লিক। ব্যক্তিগত জীবনেও তাদের মাঝে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। তারপরও কাঞ্চনের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সুদীপ্তা চক্রবর্তী তাঁর ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে বন্ধুত্ব ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। এতে সুদীপ্তা লেখেন, ‘এক সময়ের বন্ধু/ সহকর্মী কাঞ্চন মল্লিক তোকে ত্যাগ দিলাম। অনুপ্রেরণার লকারে চোখ, কান, মাথা, মনুষ্যত্ব, বিবেক, বুদ্ধি, বিবেচনা, শিক্ষা সব ঢুকিয়ে রেখে চাবিটা হারিয়ে ফেলেছিস মনে হয়। চাবিটা খুঁজে পেলে খবর দিস বন্ধু। তখন আবার কথা হবে, আড্ডা হবে।’
প্রকাশ্যে বলার কারণও তিনি জানিয়েছেন। লেখেন, ‘কথাগুলো ফোন করে বা মেসেজ করেও বলতে পারতাম হয়তো, যদি তোর বলা কথাগুলো ফোনেই শুনতাম। তুই যেহেতু নিউজ মিডিয়াকে বললি, তাই আমিও সোশ্যাল মিডিয়াতেই লিখলাম।’
অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন, যা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এ অভিনেতা লেখেন, ‘ঘাঁটা মল্লিক, চাটা মল্লিক, ফাটা মল্লিক, টা টা মল্লিক।’ ঋত্বিকের এমন ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের সঙ্গে নেটিজেনদের বড় অংশ সহমত পোষণ করেছেন। শর্মিলা লেখেন, ‘এরা বর্জ্যও চেটে নিতে পারে।’
প্রিয়াঙ্কা দাস লেখেন, ‘সত্যি! চাটতে চাটতে বাংলাও ভুলে গেছে সব। অনুদান আর বেতনের তুলনা টানছে।’ প্রশান্ত মন্ডল লেখেন, ‘মাদারবোর্ড মল্লিক।’
অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দিয়েছেন অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তী। তিনি লেখেন, ‘ছি! কাঞ্চন মল্লিক ছি!’ এ পোস্টেও নেটিজেনরা সহমত প্রকাশ করেছেন।
দেবজিৎ লেখেন, ‘ও (কাঞ্চন) ভেবেছে মাইনে দেয় মমতা ব্যানার্জির বাবার টাকা থেকে।’ অভি সরকার লেখেন, ‘চাটা মল্লিক ছি!’ অঞ্জনা রায় লেখেন, ‘নির্লজ্জ।’ এমন অসংখ্য মন্তব্য ভেসে বেড়াচ্ছে কমেন্ট বক্সে।
প্রতিবাদ করতে হলে সরকারি বেতন ফিরিয়ে দেওয়ার কাঞ্চনসুলভ যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঋদ্ধি সেন। ফেসবুকে ঋদ্ধি লিখেছেন, ‘যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকারকে প্রশ্ন করতে গেলে সরকারি মাইনে ফেরত দিয়ে করতে হয়, তাহলে সেই একই নিয়মে কাঞ্চন মল্লিকের বাজে বকার জন্য বিধায়কসহ যেকোনো রাজনৈতিক পদ ফেরত দিয়ে অবিলম্বে স্কুলে ফেরত চলে যাওয়া উচিত। ভারতীয় সংবিধান না জেনে রাজনীতি করা তো দূরের কথা, ঠিক করে মোসাহেবিও করা যায় না।’
অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাঞ্চনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তিনি ফেসবুকে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এমএলএ সাহেব কি নিজের পকেট থেকে সরকারি কর্মচারীদের মাইনে ও ডিএ দেন নাকি?’ এরই সঙ্গে কাঞ্চনের উদ্দেশে জয়জিৎ লেখেন, ‘আপনার মাইনেটাও যেমন সাধারণের করের টাকায় হয়, তাঁদেরটাও তা-ই হয়।’
এমন টলমলে পরিস্থিতি নিয়ে নিজের দেওয়া বক্তব্য থেকে একটু পিছিয়ে এসেছেন কাঞ্চন মল্লিক। ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, ‘আমি শুধু এটুকুই বলেছিলাম, চিকিৎসকেরা তো বেতন পান। মুমূর্ষু রোগীরা কি পরিষেবা পাবেন না? আমি আন্দোলন করছি বলে যদি কাজ না করি, আমাকে কি আমার প্রযোজক টাকা দেবেন? পেশাদার হিসেবে আমাকে পরিষেবা দিতেই হবে। তিনি চিকিৎসক হতে পারেন, আমার মতো অভিনেতা বা সাংবাদিকও হতে পারেন।’