মারা গেছেন অভিনেতা বিপ্লব দাশগুপ্ত 

ভারতীয় বাংলা সিনেমার বর্ষীয়ান অভিনেতা ও বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত আর নেই। ৭৫ বছর বয়সী এ শিল্পী শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে দক্ষিণ কলকাতায় মারা গেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই অভিনেতা। ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার হঠাৎ শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। তবে পথেই মারা যান তিনি।

অভিনেতার স্ত্রী রুমা দাশগুপ্ত জানান, গত দেড় বছর ধরে তিনি ‘অটোইমিউন ডিজিজ’-এ ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছিলেন বিপ্লব। অনেক সময় কারো ফোনও রিসিভ করতেন না।

অভিনেত্রী ও বাচিকশিল্পী সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘যোগমায়া’ ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করার সময় বিপ্লব দাশগুপ্ত সুস্থ ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রস্টেটে অস্ত্রোপচার হয়, এরপর থেকেই শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয়। 

দক্ষিণ কলকাতায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। তাদের এক মেয়ে রয়েছে, যিনি বাইপাসের কাছে থাকেন। আজ সন্ধ্যায় প্রয়াত এই অভিনেতার মরদেহ টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে নেওয়া হবে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর শেষ করে কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করেছিলেন তিনি। পরে সৃজনশীলতার টানে সাহিত্য, নাট্যজগৎ ও চলচ্চিত্রে যুক্ত হন। ভয়েস-ওভার আর্টিস্ট ও বিজ্ঞাপন জগতে কাজের পর অভিনয়কেই মূল পেশা হিসেবে বেছে নেন।

২০০৪ সালে ‘শ্যাডোজ অব টাইম’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর ‘বাইশে শ্রাবণ’ (২০১১), ‘৮৯’ (২০১৫), ‘ফেলুদা’ (২০১৭) ও ‘গুমনামি’ (২০১৯)-সহ একাধিক আলোচিত চলচ্চিত্রে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও নাসিরুদ্দিন শাহের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৯ সালে ‘দেবতার গ্রাস’ সিনেমায় তাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। মহানায়ক উত্তম কুমার ও তার ভাই তরুণ কুমারের সঙ্গেও ছিল তাঁর গভীর সম্পর্ক।