পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে হাওড়ার শিবপুর থেকে জয়লাভ করেছেন বিজেপি প্রার্থী তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। সোমবার (৪ মে) ভোট গণনার পর ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই তাঁকে শুভেচ্ছা জানান টলিউডের আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের মুহূর্তে এই দুই তারকার কথোপকথনকে ভালোভাবে নেননি নেটিজেনরা। সামাজিকমাধ্যমে তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়েন বুম্বাদা। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি নিজেই।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন প্রসেনজিৎ। সেখানে তিনি অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তাঁর গায়ে রাজনৈতিক রঙ না লাগানোর অনুরোধ জানান।
অভিনেতা বলেন, ‘আমি বহু বছর ধরে অত্যন্ত সম্মানের সাথে অভিনয় করে আসছি এবং আগামীদিনেও ঠিক একইভাবে কাজ করে যেতে চাই। আপনাদের সকলের কাছে আমার একটাই বিনীত অনুরোধ—দয়া করে আমার গায়ে কোনো রাজনৈতিক রঙ লাগাবেন না।’
প্রসেনজিৎ জানান, গতকাল রাতে রুদ্রনীলই তাঁকে ফোন করেছিল। বললেন, ‘আমি কাউকে ফোন করিনি; বরং আমার ছোটভাই (রুদ্রনীল ঘোষ) ফোন করেছিল আমাকে। বড়দাদা হিসেবে কাউকে আশীর্বাদ করা আমার কর্তব্য, আর আমি কেবল সেইটুকুই পালন করেছি। এর সাথে রাজনীতির কোনো যোগসূত্র নেই।’
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে যে আসনে পরাজিত হয়েছিলেন, এবার সেই আসনেই বাজিমাত করলেন রুদ্রনীল ঘোষ। হাওড়া জেলার শিবপুর আসনে ১৬,০৫৮ ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়কে পরাজিত করে বিজয়ের মালা পড়েন তিনি।
রুদ্রনীলের ভাষ্য, ‘আমি অভিনেতা থেকে নেতা। ইতিমধ্যেই টলিউডের আগামী দিনের ছবি কেমন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন করা শুরু হয়েছে। একটাই কথা বলব, যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ পাবেন সবাই। অভিনেতা থেকে সাংবাদিক—কারও ওপরে কোনোভাবেই আর খবরদারি ফলানো হবে না। কে অভিনয় করতে পারবেন আর কে পারবেন না, সাংবাদিক কতটুকু লিখতে পারবেন—এটাও তো এতদিন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হত। রইল বাকি ব্যান সংস্কৃতি। সেসবও আর থাকবে না।’
জয়ের পর রুদ্রনীলের মনে নবান্ন শুরু! সহকর্মী ও অনুরাগীদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন এ অভিনেতা।