ফ্রুগাল ইনোভেশন ফোরামের সম্মেলন

কৃষিতে বাংলাদেশের উদ্ভাবন খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখছে

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের উদ্ভাবন খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখছে। তাই ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো এসব উদ্ভাবন কাজে লাগাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ। ব্র্যাক আয়োজিত ফ্রুগাল ইনোভেশন ফোরামের অষ্টম সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। আজ শুক্রবার সাভারে ব্র্যাক সিডিএমে দুইদিনের এই সম্মেলন শুরু হয়।

বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অসময়ে বৃষ্টি, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, এমনকি বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও। এতে লবণাক্ত পানির বিস্তার ঘটছে। কৃষিজমি নোনা হয়ে পড়ায় ঘাটতি হচ্ছে খাদ্য উৎপাদনে। তাই কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকায় জলবায়ু ভিত্তিক অভিযোজনের তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।  

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ব্র্যাক আয়োজিত ফ্রুগাল ইনোভেশন ফোরাম সম্মেলন শুরু হয়েছে সাভারে। দুদিন ব্যাপী এই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি ২০০ প্রতিনিধি অংশ নেন। যাদের ৭৪ জন এসেছেন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে। 

সম্মেলনে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের মহাসচিব ও মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ ভার্চুয়ালি যোগ দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘ব্র্যাকের উদ্ভাবিত অ্যাডাপ্টেশর ক্লিনিক ভীষণ কার্যকর, যা বিশ্বের উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৩০ মিলিয়ন মানুষের উপকারে আসতে পারে। এ অঞ্চলের মানুষদের প্রধান জীবিকা কৃষি, মৎস্য এবং লবণ চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।’

সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ও প্রকৃতি ভিত্তিক সমাধান বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখে। ব্র্যাকের জলবায়ু কর্মসূচির পরিচালক লিয়াকত আলী বলেন, ‘এক ফসল থেকে দুই ফসল, দুই ফসল থেকে সম্ভব হলে তিন ফসল তারা (কৃষক) যাতে করতে পারে, সেটাই আমরা চেষ্টা করেছি। আমরা ইতোমধ্যে দেশ এবং দেশের বাইরে আমাদের এই অ্যাডাপ্টেশন ক্লিনিকের কনসেপ্ট ছড়িয়ে দিতে পেরেছি।’

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ‘কীভাবে অ্যাকশনেবল করা যায় এবং তাদের (কৃষকদের) জন্য বোধগম্য করা যায়–সেই কাজটা আমরা করছি। পলিসিতে অনেককিছু পরিবর্তন হয়, কিন্তু তারপর প্র্যাকটিসে মাঠে গিয়ে এটা আর দেখা যায় না। সেই ব্যাপারটাও পলিসি মেকাররা বুঝবেন এবং এরপর একটা পার্টনারশিপ হবে বলেই আমাদের আশা।’
 
ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মের মেধা কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়েছেন গবেষকেরা। জলবায়ু গবেষক ইসলামুল হক বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর যেটা অনুধাবন করেছি যে, আমাদের নতুন প্রজন্ম অনেক দেশপ্রেমিক। তারা মনে করছে যে, আমরা একসঙ্গে কাজ না করলে, কঠোর পরিশ্রম না করলে এবং উদ্ভাবন শক্তি ব্যবহার না করলে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।’ 

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ নিয়ে একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়। সম্মেলন শেষ হবে শনিবার।