ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রতিদিনই তলিয়ে যাচ্ছে হাওরের নতুন নতুন এলাকার ধানখেত। টানা বৃষ্টিতে খেতের ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষক। আর রোদে শুকাতে না পারায় নষ্ট হচ্ছে মাড়াই করা ধান। ফসলের ক্ষতিতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। এদিকে ৭ মে পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টিতে ডুবেছে হাওরের ফসল। সতর্কবার্তা পেলেও শ্রমিক সংকটসহ নানা কারণে কাটা যায়নি বেশিরভাগ নিচু জমির ধান।
হবিগঞ্জে বৃষ্টির মধ্যেই পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটছেন কৃষকেরা। বৈরী আবহাওয়া ও শ্রমিক সংকটে ফসল নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন তারা।
হবিগঞ্জের এক কৃষক বলেন, জমির ধান কাটতে পারলেও ঘরে নিয়ে আসতে পারিনি।
মৌলভীবাজারেও থেমে থেমে বৃষ্টি। ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো নিয়ে বিড়ম্বনায় চাষিরা। বৃষ্টিতে পানি ওঠায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাউয়াদিঘি ও হাকালুকি হাওরের ধান।
জেলার এক কৃষক বলেন, ধান কেটে জমিতে রাখছি। কেউ বলে তুলে রাখতে, কেউ বলছে না তুলতে। এরকম করতে করতে পানি চলে আসছে।
সুনামগঞ্জে নতুন করে পানিতে তলিয়েছে ২ হাজারের বেশি হেক্টর জমির ধান। আগামী ৭ মে পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘চার দিন ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এ ছাড়া আগাম বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে আমাদের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি যেকোনো সময় বন্যায় রুপ নিতে পারে।’
উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জের নদ-নদীর পানি বাড়ায় তলিয়ে গেছে হাওরাঞ্চলের ৮ উপজেলার সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর জমির ধান। এদিকে, বাড়তি মজুরি দিয়েও মিলছে না ধান কাটার শ্রমিক।
জেলার এক বাসিন্দা বলেন, দিনের আবহাওয়া এরকম খাপার থাকে দুই-চার দিন। তাহলে যেগুলো ধান তুলছি এগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।
বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণার কংশ, উপদাখালিসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বেশিরভাগ হাওরের ধান কাটা বাকি থাকায় ফসল নিয়ে বাড়ছে উৎকণ্ঠা।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন জেলার প্রতিনিধিরা।