সম্প্রতি একটি প্রজননক্ষম পুরুষ হাতির মৃত্যুর ঘটনায় রাঙামাটির লংগদু-বরকল এলাকার বন্যহাতির পাল অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ওই হাতিটির মৃত্যুতে এ অঞ্চলে হাতির বংশবৃদ্ধি থমকে যেতে পারে। এদিকে মৃত হাতিটির পা ও শুঁড় কেটে নেওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছে বন বিভাগ। হাতি রক্ষায় এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) আরও সক্রিয় করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ২৭ এপ্রিল রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদাম এলাকায় অসুস্থ হয়ে প্রায় ৬৫ বছর বয়সী একটি পুরুষ হাতির মৃত্যু হয়। তার সঙ্গী একটি স্ত্রী হাতি দীর্ঘ সময় মৃত হাতিটির পাশে অবস্থান করে।
পরে স্ত্রী হাতিটি সরে গেলে রাতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে দুর্বৃত্তরা হাতিটির শুঁড় ও পায়ের মাংস কেটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ইআরটির সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. জয়নাল পিসি বলেন, ‘আমরা রাত ২টা পর্যন্ত পাহারায় ছিলাম। প্রচণ্ড বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে এলাকা ছাড়ার পর কে বা কারা এসে হাতির পায়ের মাংস ও শুঁড় কেটে নিয়ে যায়। এটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা। আমরা দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
মৃত হাতির অঙ্গচ্ছেদের ঘটনায় লংগদু থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে বন বিভাগ। এছাড়া মৃত্যুর কারণ জানতে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পাবলাখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। যারা এ নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের শনাক্তে অনুসন্ধান চলছে।’
রাঙামাটি ভেটেরিনারি সার্জন ডা. দেবনাথ চাকমা বলেন, ‘হাতিটির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে শারীরিক দুর্বলতায় এর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।’
এলাকার একমাত্র প্রজননক্ষম পুরুষ হাতিটির মৃত্যু হওয়ায় পুরো পালের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, হাতি সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমকে আরও কার্যকর ও সক্রিয় করতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম এ আজিজ বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ হাতি না থাকলে স্বাভাবিক প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয়, যা পুরো পালের জন্য বড় সংকট তৈরি করতে পারে।’
পিপল ফর অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রাকিবুল হক বলেন, ‘হাতির মতো বড় প্রাণী সুরক্ষায় এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের পাশাপাশি জরুরি সহায়তা দল গঠন প্রয়োজন। প্রয়োজনে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে শুধুমাত্র হাতি সুরক্ষায় একটি আলাদা টিম রাখা যেতে পারে।’
উল্লেখ্য, গত চার বছরে ওই এলাকায় দুটি পূর্ণবয়স্ক এশীয় হাতি ও একটি শাবকের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে লংগদু-বরকল এলাকায় টিকে আছে মাত্র ১২টি হাতি।