ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীর জলবায়ু-সহনশীল উদ্যোক্তা উন্নয়নবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীর জলবায়ু-সহনশীল উদ্যোক্তা উন্নয়নবিষয়ক কর্মশালা ‘অ্যাডভান্সিং উইমেনস ক্লাইমেট রেসিলেন্ট এন্টারপ্রেনারশিপ : এভিডেন্স, ইনক্লুসিভ ফ্যাইন্যান্স অ্যান্ড ক্লাইমেট জাস্টিস ফর ইনক্লুসিভ গ্রিন গ্রোথ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অন্ট্রেপ্রেনরশিপ ডেভেলপমেন্ট (সিইডি) এই কর্মশালার আয়োজন করে ‘এমপাওয়ার: উইমেন ফর ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট সোসাইটিজ (পর্ব-২)’ প্রকল্পের আওতায়। 

জাতিসংঘ নারী বিষয়ক সংস্থা (ইউএন উইমেন) ও জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)-এর সহায়তায় ২০২২ সাল থেকে পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ১২টি জেলার ১ হাজার ২০০ জন নারী উদ্যোক্তাকে তাদের ব্যবসায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ প্রদান করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিইডি।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির ক্লাইমেট চেঞ্জ ডিভিশনের জেন্ডার অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ এক্সপার্ট আলেকজান্দ্রা মুতুঙ্গি; ইউএন উইমেন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ নবনিতা সিনহা; এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এ.কিউ.এম. গোলাম মওলা।

কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভ ডাউল্যান্ড। তিনি কমিউনিটি পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য সিইডিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

প্রকল্পের অবদান সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিইডির হেড আফসানা চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নারী উদ্যোক্তারা যেসব আর্থিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন, সিইডির এই উদ্যোগ তা সমাধানে কাজ করছে।

আলেকজান্দ্রা মুতুঙ্গি প্রকল্পের অর্জন সম্পর্কে বলেন, নারীদের জলবায়ু-সহনশীল জীবিকাকে সহায়তা করার লক্ষ্যে এই প্রকল্প সরকার, বাণিজ্যিক ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, প্রভাব-কেন্দ্রিক বিনিয়োগকারী, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি সেবাদাতা, সুশীল সমাজের সংগঠন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি বহু-অংশীজনভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তুলেছে।

ইউএন উইমেন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ নবনিতা সিনহা বলেন, এই প্রকল্প যে উন্নয়ন চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি দৃষ্টি দিয়েছে, সেগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

এ.কিউ.এম. গোলাম মাওলা বলেন, এটি স্পষ্ট যে এই প্রকল্প থেকে উদ্যোক্তারা উপকৃত হয়েছেন এবং এখন পরিকল্পনা করতে হবে এ ধরনের প্রকল্পকে কীভাবে টেকসই করা যায়।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে–যেখানে এই প্রকল্প কাজ করেছে—সেখানে নারীদের যেসব দায়বদ্ধতা রয়েছে তা নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং জলবায়ু পরিবর্তন এ আক্রান্ত অঞ্চলের পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকার ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্লান অনুসরণ করে চলেছে। তিনি সিইডি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ প্রদান করেন প্রান্তিক পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তাদের বিষয়গুলো এ প্রকল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য।

কর্মশালায় দুটি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন সিইডি-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাবরিনা নওরীন। এ ছাড়াও কর্মশালায় একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক, ইউএনইপি, এসএমই ফাউন্ডেশন, মিডাস, ব্র্যাক স্কিলস প্রোগ্রাম, ব্র্যাক ব্যাংক এবং ওয়াটারডটওআরজির প্রতিনিধিরা প্রকল্প সম্পর্কে বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও মতামত তুলে ধরেন।

প্যানেল আলোচনা শেষে, প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তাদের উদ্যোগগুলোকে টেকসই করার লক্ষ্যে সিইডি এর পক্ষ হতে ১ হাজার ২০০ জন নারী উদ্যোক্তার একটি ডেটাবেস প্রকল্পের অংশীজন এসএমই ফাউন্ডেশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয় ৷