বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি নাকি অবনতি, যা জানা যাচ্ছে

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল চলমান থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য তিন জেলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির কিছু এলাকায় ধীরগতির উন্নতির আভাস থাকলেও উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে নতুন করে অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ছয়টি জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত চারটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে বান্দরবান ও চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদী, হবিগঞ্জের খোয়াই নদী, মৌলভীবাজারের মনু নদী এবং সুনামগঞ্জ ও সিলেটের কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে রয়েছে।

ভারী বর্ষণের কারণে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল স্বল্পমেয়াদে প্লাবিত হতে পারে। তবে এই সময়ে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির ধীরগতিতে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, সিলেট ও সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে এবং সুরমা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ রোববার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অতিভারী বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের সিলেট, ময়মনসিংহ ও উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীতে পানি আরও বেড়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। উত্তরাঞ্চলে তিস্তা, ধরলা, করতোয়া ও দুধকুমার নদীর পানি ইতিমধ্যে বাড়ছে। তবে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি কমছে এবং গঙ্গা-পদ্মার পানি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদীর পানি বাড়লেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় একটি সেতু ধসে পড়ায় রাঙামাটি ও বান্দরবানের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সারা দেশে বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা