রাজশাহী চিড়িয়াখানা হচ্ছে সাফারি পার্ক: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানাকে একটি আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও আন্তর্জাতিক মানের সাফারি পার্কে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রোববার সকালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. মামুন হাসানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের কারণে রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানার ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, শিগগিরই একটি বিশেষজ্ঞ দল চিড়িয়াখানাটিকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক সাফারি পার্কে রূপান্তরের সম্ভাব্যতা যাচাই করবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, চিড়িয়াখানা থেকে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া বা অন্যত্র স্থানান্তর করা প্রাণীদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন প্রাণী সংযোজনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে চিড়িয়াখানার আকর্ষণ ও জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি করা হবে।

চিড়িয়াখানায় হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং খাদ্যসংকটের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পার্কে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত হরিণ রয়েছে। ফলে খাদ্য সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের সুপারিশ অনুযায়ী পরিবেশসম্মত ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

রাজশাহীতে একটি আধুনিক স্লটারিং হাউস স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু জবাই ও মাংস বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার (স্লটারিং হাউস) স্থাপন করা হবে। এ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় স্থান ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, জেলা প্রশাসন ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।