পাচারের উদ্দেশে দেশের গভীর বন থেকে তুলে আনা হচ্ছে বন্যপ্রাণীর বাচ্চা। তাদের শরীরে চেতনা নাশক ওষুধ দিয়ে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। আরেকটি চক্র বিদেশ থেকে নিয়ে আসছে আগ্রাসী কচ্ছপ, সাপ, মাকড়সা। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ও গবেষকরা বলছেন, সীমান্তে দুর্বল নজরদারির কারণেই বাড়ছে প্রাণী পাচার।
রাজধানীর মিরপুরের বেড়ি বাঁধ এলাকার একটি বাড়ির ছাদ যেন ছোট চিড়িয়াখানা। এখানে জীর্ণপরিবেশে আটকে আছে রাজধনেশের বাচ্চা। এক জোড়া কাক ধনেশের ছানাও রাখা খাঁচায়। আরও আছে গন্ধগোকুল, চশমা পরা হনুমান ও সজারুর শাবক। এমনকি বাদ যায়নি ঈগল-প্যাঁচার বাচ্চাও। সম্প্রতি এখানে বন বিভাগের অভিযানে উদ্ধার করা হয় এদের।
এই প্রাণিগুলো সংগ্রহ করেছিল হাদিস নামে এর পাচারকারী। তাকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করা হয়। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট বলছে, দেশের গভীর বন থেকে প্রাণীদের বাচ্চা তুলে আনা হয়। এরপর খাবারের সাথে অথবা ইনজেকশনে অচেতন ওষুধ দিয়ে পাচার করা হয় বিদেশে।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, এই প্রাণীগুলোকে যখন পাচার করা হয়, তখন ঘুমের ইনজেকশন দেয়; যাতে ৮–৯ ঘণ্টা এগুলো অচেতন থাকে। গোডাউন আবিষ্কার করার পর এটা বোঝা গেছে।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর এলাকার আরও এক বাসা থেকে বিদেশি আগ্রাসী প্রজাতির একহাজার কচ্ছপের ছানা উদ্ধার করা হয়। বিদেশি প্রজাতির সাপ, মাকড়সারও বাচ্চা পাওয়া যায় এখানে। আকাশ পথেই এইসব আগ্রাসী প্রাণী অবৈধভাবে আনা হচ্ছে দেশে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড.ফিরোজ জামান বলেন, আমাদের যে স্থলবন্দর–বিমানবন্দর আছে; সব কর্তৃপক্ষ জোরালোভাবে কাজ করে যেন ব্যবস্থাপনাটা জোরদার করা হয়।
গবেষকরা বলছেন, বন্যপ্রাণী পাচারকে অনেকেই অপরাধ হিসেবে দেখে না। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের প্রচার জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আশিকুর রহমান সমী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যে বণ্যপ্রাণী আইন পাস হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ, পুলিশ– সকলের সম্মিলিতভাবে বিষয়টাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আকাশ পথের পাশাপাশি প্রাণী পাচারে ব্যবহার হচ্ছে উত্তর ও মধ্যাঞ্চল সীমান্ত। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম দিয়ে মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, চীন থাইল্যান্ডসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতেও যাচ্ছে এসব প্রাণী।