আজ বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস। তবে, মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগের কারণে বিপদে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শ্বাসমূলীয় সুন্দরবন। এই বনের প্রাকৃতিক সুরক্ষা নিশ্চিতের তাগিদ গবেষকদের। আর পরিবেশ উপমন্ত্রী বলছেন, স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে বিজ্ঞানভিত্তিক বন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। শুধু বেঙ্গল টাইগার নয়, হাজারো উদ্ভিদ, মাছ, পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল এখানে। তবে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাকৃতিক ঢাল এই বন।
মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় বনের মাটি ও পানির লবণাক্ততা বাড়ছে। এর প্রভাবে, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখিসহ বনের প্রাণী ও উদ্ভিদ নানা সংকটে রয়েছে। সেই সাথে চলছে বন দখল।
সুন্দরবনের মোহনা এবং নদীগুলোতে পলি জমে প্রতিনিয়ত জাগছে নতুন চর। এর মধ্যে ডিমের চর ও পক্ষির চর অন্যতম। এসব জায়গায় এখন বনায়ন করছে সরকার।
বন্যপ্রাণী গবেষক ড. আলী রেজা খান বলেন, সুন্দরবনের বনাঞ্চলকে আমরা কতটুকু গড়তে দিয়েছি, সেটা ধ্বংস হচ্ছে কি না, এটা দেখতে হবে। যেখানে নতুন চর জাগছে সেখানে প্রাকৃতিকভাবে বন গড়ে উঠছে নাকি, সেখানে বনবিভাগ জোর গাছ লাগিয়ে দিয়েছে। বনবিভাগ সারা জায়গায় ৩–৫ প্রজাতির গাছ লাগিয়েছে,অথচ সারা সুন্দরবনে প্রায় ৪০০ প্রজাতির গাছ আছে।
প্রাকৃতিক দূর্যোগের চাইতেও মানুষ্যসৃষ্ট সমস্যাই সুন্দরবনকে বেশি ঝুঁকিতে ফেলছে। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিজ্ঞানভিত্তিক বন ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন প্রাকৃতিকভাবে আমাদের সুরক্ষা দিচ্ছে। প্রাকৃতিক নিয়মেই বন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আক্রান্ত হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি সুন্দরবন প্রাকৃতিকভাবে যেন থাকে, নিজের মতো প্রাণপ্রকৃতি যেন বৃদ্ধি পায়।
সম্প্রতি ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার সাথে যৌথভাবে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বনায়ন পুনরুদ্ধারের জন্য একটি প্রকল্প চালু হয়েছে।



