দখল ও দূষণ রোধে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পদক্ষেপ বাদ রেখেই করতোয়া নদী খনন প্রকল্প অনুমোদন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। হুমকির মুখে পড়া নদীটি রক্ষায় পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা হাইকোর্টে গেলে ১০ বছর আগে বেশ কিছু নির্দেশনা দেন আদালত। তবে সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পে দখল-দূষণ রোধের বেশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাদ পড়েছে, অভিযোগ সচেতন নাগরিকদের।
১৯৮৮ সালের বন্যার পর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্লুইস গেট নির্মাণ হলে কমে যায় করতোয়া নদীর পানি প্রবাহ। আর গত কয়েক দশকের দখল-দূষণে অস্তিত্ব হারানোর মুখে এই নদী।
করতোয়া নদী রক্ষায় ২০১৫ সালে হাইকোর্টে আবেদন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-বেলা। আদালতের নির্দেশনার আলোকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে গত ১৬ জুন অনুমোদন হওয়া ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকার প্রকল্পে বাদ পড়েছে শহরে নদীর দুই তীরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ইটিপি, ওয়াকওয়ে, পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোসহ অন্তত ৭টি কম্পোনেন্ট।
এ বিষয়ে বগুড়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘খুলশীতে স্লুইস গেট অপসারণ, নদীর তলদেশের গভীরতা আরও সাড়ে ৩ মিটার বাড়ানো এবং প্রশস্ততা ৩০ মিটার থেকে ৩২ মিটার পর্যন্ত করার আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড।’
বগুড়ায় এই করতোয়া নদীর তীরেই আড়াই হাজার বছর আগে গড়ে উঠে পুণ্ড্রু নগর বা মহাস্থান গড়। নদীর পানিপ্রবাহ ফিরলে কৃষি ও যোগাযোগে সুবিধার পাশাপাশি বন্যা ও নদী ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আসবে।



