প্রকৃতিগতভাবে গড়ে ওঠা নৈস্বর্গের লীলাভূমি ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। এই সুন্দরবনের সৌন্দর্যই রয়েল বেঙ্গল টাইগার। আর সেই বাঘের যদি হঠাৎ করে দেখা মেলে তাহলে সুন্দরবন দর্শনে পরিপূর্ণতা পায়। সম্প্রতি সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের দুটি রেঞ্জে বাঘের অবাধ বিচরণ বনবিভাগকে আশান্বিত করেছে।
বাঘের এই অবাধ বিচরণে বনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে বলে ধারণা বনবিভাগের।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, খুব ফ্রিকুয়েন্টলি বাঘ দেখছেন সুন্দরবনে। এটি আসলে দেখা যাচ্ছে কেন? অফিস ক্যাম্পাসে চলে আসছে, নদী খাল সাঁতরে যাচ্ছে। সুন্দরবনে এখন কোনো জনসমাগম নেই, তিন মাস ধরে কোনো লোকজন (জেলে ও পর্যটক) নেই। ওরা (বাঘ) এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এই বনকর্মকর্তা আরও বলেন, ওরা (বাঘ) মনে করছে যেহেতু বনে লোকজন নাই, তাই সবই এখন বন। ওরা ওদের আবাসস্থল মনে করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ কারণে ওদের বেশি দেখা যাচ্ছে।
বনে হরিণের সংখ্যা বেড়ে গেছে উল্লেখ করে মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আমরা জানি হরিণ বাড়লে বাঘও বাড়ে। তাই আমরা মনে করছি বনে বাঘ ও হরিণ দুটোই বেড়েছে। এই ট্রেন্ড যদি চলে তাহলে আগামী ২০২৭ সালে যে জরিপ হবে তাতে বাঘের সংখ্যা বেশি হবে বলে আশা করছি।
দেশে ৩ থেকে ৪ বছর পরপর বাঘ জরিপ হয়। সবশেষ ২০২২–২৩ সালে জরিপ করা হয়েছে। ২০২৭ সালে এই জরিপ হওয়ার কথা রয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, দেশি–বিদেশি পর্যটকদের চাহিদা থাকে সুন্দরবনকে এক নজর দেখার। সেই সুযোগ থেকে তাদের বঞ্চিত করতে চাই না। সে লক্ষ্যে সুন্দবনের ইকোট্যুরিজম মাস্টারপ্লান ও রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট প্লান আছে। সেই প্লানে বনের অভয়ারণ্য এলাকাতে প্রতিদিন কতজন পর্যটক যাবে, এরবেশি পর্যটকদের অনুমতি দেওয়া হবে না। এইটা যদি আমরা মেইনটেইন করতে পারি তাহলে সমস্যা হবে না।
ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী আরও বলেন, বনবিভাগ সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পর্যটকদের বিচরণ করতে দেয়, কাউকেই গহীন জঙ্গলে ঘোরাঘুরির অনুমতি দেয় না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো বাঘ ও হরিণের জন্য যেগুলো হুমকির বিষয় বিবেচিত হয়েছে সেগুলো যদি থামানো যায় তাহলে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়বে। সর্বশেষ ২০২২–২৩ সালের গণনায় (জরিপে) পূর্ণবয়স্ক বাঘের সংখ্যা এখন ১২৫টি। এভাবে যদি সুন্দরবনকে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারি তাহলে আগামী ২৭ সালের যে জরিপ হবে তাতে বাঘের সংখ্যা অনেক বাড়বে বলে আশা করছি।