আজ বিশ্ব বাঘ দিবস

বিলুপ্তির ঝুঁকি কাটিয়ে সুন্দরবনে বাড়ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার  

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে বলা হয় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা প্রাচীর। আর এই বনের রাজকীয় পরিচয় ও প্রধান প্রহরী আমাদের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার। জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবসৃষ্ট নানা হুমকির কারণে একসময় আশঙ্কাজনক হারে কমছিল সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা। তবে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগের সুফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুসংবাদ মিলেছে। গত সাত বছরে দেশে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে ১১টি।

আজ ২৯ জুলাই, বিশ্ব বাঘ দিবস। দিবসটিতে সুন্দরবনের বাঘ বাড়ার এই তথ্য প্রকৃতিপ্রেমী ও বনজীবীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

জরিপে বাঘ বাড়ার তথ্য ও চ্যালেঞ্জ
বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাংলাদেশকে ঢালের মতো রক্ষা করে আসছে সুন্দরবন। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এবং বিভিন্ন মানবসৃষ্ট কারণে একসময় আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করেছিল বাঘের সংখ্যা। বাঘের সংখ্যা হ্রাসে নড়েচড়ে বসে বন বিভাগ। গ্রহণ করা হয় বাঘের নিরাপত্তা ও বংশবৃদ্ধির বিশেষ পরিকল্পনা। যার সুফলে সম্প্রতি পরিচালিত দুটি পৃথক জরিপে সুন্দরবনে বাঘ বৃদ্ধির ইতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে।

তবে গবেষকেরা বলছেন, বাঘের সংখ্যা বাড়লেও পুরোপুরি দূর হয়নি প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট হুমকি। বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল, খাদ্যের পর্যাপ্ততা এবং নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, ‘পশুদের আবাসস্থলে যদি মানুষের অবাধ চলাচল থাকে, তবে তাদের প্রজননেও বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।’

‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’ নামের সংগঠনের আহ্বায়ক নূর আলম শেখ বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়াতে হলে বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল, পর্যাপ্ত খাবার এবং নির্বিঘ্ন প্রজনন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’

সরকারের বিশেষ পদক্ষেপ ও বন বিভাগের বক্তব্য
জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বাঘ সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে সুন্দরবনে এখন বাঘের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও, বাগেরহাট) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার ফলেই সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে বাঘ সুন্দরবনে নিরাপদ রয়েছে।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাঘ ও মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে এবং লোকালয়ে বাঘের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বনের সীমান্ত সংলগ্ন ৭৪ কিলোমিটার এলাকায় তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ পরিবেশবান্ধব সুতলির বেড়া, যাতে বাঘ কোনোভাবেই লোকালয়ে প্রবেশ করতে না পারে।’

নয়নাবিরাম সুন্দরবনে এখন আগের তুলনায় বাঘের দেখা মিলছে বেশি। তবে জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের স্থায়ী নিরাপত্তা এবং সংখ্যা বৃদ্ধির এই ধারা বজায় রাখতে বন বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদেরও একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।