ঊর্ধ্বাকাশে বাতাসের গতিবিধি জানতে দিনে দুইবার পাইলট বেলুন ছাড়া হয়। ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের তাপমাত্রা, বাতাসের আর্দ্রতা, সূর্যকিরণ, বজ্রপাত, বৃষ্টিসহ প্রকৃতির সুক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
অন্যদিকে স্যাটেলাইট ইমেজ ও গাণিতিক মডেল বিশ্লেষণ করে মেলে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২৭৫টি স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করেই দেওয়া হয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস।
দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার সঠিক পূর্বাভাস পেতে উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃত শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন আবহাওয়া অধিদপ্তরের। সেজন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত সংখ্যায় দক্ষ জনবলেরও। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।
প্রান্তিক পর্যায়ে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোর অবস্থা দিনদিন খারাপ হচ্ছে। দুর্যোগপ্রবণ সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, সিলেট ও তিন পার্বত্য জেলার পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে নেই দক্ষ জনবল।
জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ এস এম কামরুল হাসান জানান, উপজেলা পর্যায়ে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম বলছেন, সংস্থাটির ১ হাজার ৩০০ পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৭০০ কর্মকর্তা। সেই সঙ্গে আছে স্বায়ত্বশাসনের অভাব।
আবহাওয়া গবেষকরা জোর দিচ্ছেন, জনবল সংকট কাটিয়ে প্রশিক্ষিত আবহাওয়াবিদ গড়ে তোলার ওপর। প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির উপচার্য ও আবহাওয়া গবেষক ড. আব্দুল মান্নানের মতে, বঙ্গোপসাগরের সুনীল অর্থনীতির সুফল পেতে সমুদ্রে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা জরুরি।
নরওয়েসহ আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের সাথে যৌথভাবে ২১০০ সালের আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের।