বুড়িগঙ্গা তীরের ৩০টি অবৈধ ডকইয়ার্ডের মধ্যে থেকে ১০টি উচ্ছেদ করেছে কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার কেরানিগঞ্জ ও শ্যামপুরে নদীর পাড়ে অবৈধ নৌযান তৈরি ও মেরামত কারখানা উচ্ছেদে অভিযান চালায় বিআইডব্লিউটিএ। ধাপে ধাপে সব অবৈধ ডকইয়ার্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বুড়িগঙ্গার তীর দখল করে বছরের পর বছর ব্যবসা করছেন অবৈধ ডকইয়ার্ড মালিকরা। এতে মারাত্মক পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নদীর পানিপ্রবাহ।
বুধবার এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ । উচ্ছেদ করা হয় বিসমিল্লাহ, সাব্বির, ইউনিক মেরিনসহ ১০ টি অবৈধ ডকইয়ার্ড। এসময় লাইসেন্স ফি বকেয়া থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানকে মোট সাড়ে ৫ লাখ টাকা ও নদী দূষণের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিআইডব্লিউটিএ'র যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার বলেন, 'নদীতে কিছু অবৈধ ডকইয়ার্ড আছে, যারা দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে ব্যবসা করছে এবং সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নদী দূষণ করছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাব, আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন।'
বিআইডব্লিউটিএ জানায়, উচ্ছেদ অভিযানে নদী তীরের ১০ একর জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। ফের দখল হওয়া ঠেকাতে নদী তীরে গাছ লাগানো ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হবে। শিগগিরই বাকি অবৈধ ডকইয়ার্ডগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিআইডব্লিউটিএ'র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেহের নিগার তনু বলেন, 'আপনারা যদি অবৈধ দখলদার হিসেবে থেকে থাকেন, আপনারা সরে যান। না হলে আমরা বিআইডব্লিউটিএ থেকে আইনগত প্রক্রিয়া মেনে এগিয়ে যাব এবং অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে দেব।'
পরিবেশবিদরা বলছেন, এসব অবৈধ ডকইয়ার্ডের কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। মানা হয়না নিরাপত্তা মানদণ্ডও। জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের ধাতব বর্জ্য, পোড়া তেল ও রাসায়নিক সরাসরি নদীতে ফেলায় চরম দূষণের কবলে বুড়িগঙ্গা।