আজ বিশ্ব প্রাণী দিবস

পশুপাখির প্রতি সংবেদনশীলতার তাগিদ গবেষকদের

আজ বিশ্ব প্রাণী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য–প্রাণীর চোখে বিশ্ব দেখা। পশুপাখির প্রতি সহিংসতার বদলে সংবেদনশীলতা তৈরির জন্য পারিবারিক সংস্কৃতি তৈরির তাগিদ দিচ্ছেন গবেষকেরা। সেই সঙ্গে প্রয়োজন পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ।

নাজিফা তাসনিমের লাভ বার্ডটি বেশ চঞ্চল প্রকৃতির। ওকে আদর করে ম্যাঙ্গো নামে ডাকে সবাই। ম্যাঙ্গোর এই দুরন্তপনার গল্পটা একটু ভিন্ন। বছরখানেক আগে বাসার পাশের এক গাছে আটকা পড়েছিল সে। তখন ওর ডান পায়ে একটি রিং পড়ানো থাকায় সেখানে পঁচন ধরে। ম্যাঙ্গোকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয় নাজিফা তাসনিম। 

ছোটবেলা থেকেই প্রাণীর প্রতি সংবেদনশীল নাজিফা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মাস্টার্সের এই ছাত্রীর প্রিয় সহচর - ম্যাঙ্গো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষর্থী নাজিফা তাসনিম বলেন, ‘রাস্তাঘাটে দেখতাম অনেক আহত কাক পড়ে আছে। তখন আমি সেগুলোকে তুলে নিয়ে আসতাম। এরপর বাবা আমাকে শেখাতেন কোন ওষুধটা দিলে কাজ করবে।’

সিরাজগঞ্জের আরেক পাখিপ্রেমিক বুদ্দু মিয়া। তার প্রতিদিনের ভোর শুরু হয় পাখিদের নিয়ে। শহর আড়মোড়া ভাঙার আগেই ঘুম ভাঙ্গে বুদ্দু মিয়ার। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার হাটখোলা থেকে জামতৈল বাজারের সড়কে শত শত শালিক অপেক্ষায় থাকে-কখন আসবে বুদ্দু মিয়া। খাবার ছিটিয়ে..... পানি খাওয়াতে খাওয়াতে এই পথচলা তাঁর। এভাবেই বুদ্দু মিয়া শালিক দলের দিনের প্রথম খাবারের যোগান দিয়ে যাচ্ছেন গেল দশ বছর ধরে।

পাখি প্রেমিক বুদ্দু মিয়া বলেন, ‘হঠাৎ যদি চানাচুর ফুরায় যায় তাহলে আমার বাড়ি থেকে ভাত পাঠায় দেয়–হয়তো ভাত, মাছ, তরকারি। ওগুলা আবার আমি পাখিদের দেই, পাখিগুলা আবার ভাতও খায়।’

প্রাণীর প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার শিক্ষা শুরু হওয়া উচিত ছোট বেলা থেকেই। বিষয়টি শিশুদের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির তাগিদ এই গবেষকের। 

প্রাণী গবেষক অশিকুর রহমান সমী বলেন, ‘পারিবারিক শিক্ষা যেমন ছোটবেলা থেকে খুবই দরকার, একজন মা যেমন একজন বাচ্চাকে তার মায়ের ভাষাটি শেখায়, মায়ের প্রতি ভালোবাসাটা যদি প্রাণীর প্রতি মিশ্রিত অবস্থায় থাকে, ওই ভাষাটি থাকবে ওই মানুষটির প্রাণীর প্রতি সংবেদনশীল করতে।’

পথের প্রাণী ও পোষা প্রাণীদের সুরক্ষায় ২০১৯ সালে প্রণীত হয় প্রাণী অধিকার আইন। সেখানে পশুপাখির প্রতি যেকোন সহিংস আচরণের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।