হার্ট রিংয়ের দাম পুনর্নির্ধারণ: ২৪ আমদানিকারকের সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা, শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

হার্টের সব ধরনের রিং ভারতের বাজারে মাত্র ৪০ হাজার রুপি বা ৫৫ হাজার টাকার কাছাকাছি বিক্রি হলেও দেশে প্রতিষ্ঠানভেদে তা বিক্রি হত লাখ টাকার ওপরে। এমন নৈরাজ্য বন্ধে সম্প্রতি দাম নির্ধারণ করে দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। যা কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর থেকে। এর পর থেকেই ২৭ আমদানিকারকের মধ্যে ২৪ প্রতিষ্ঠানই রিং সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে হৃদরোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বিশেষজ্ঞদের।

এদিকে রিং ব্যবসায় কাউকে জিম্মি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। বিশেষজ্ঞ কমিটির মূল্যায়নের ভিত্তিতেই দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান কর্মকর্তারা।  

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে গত বছর হৃদরোগে আক্রান্ত ছয় হাজার ব্যক্তিকে হার্টের রিং পরানো হয়। প্রতি মাসে এ হাসপাতালে রিংয়ের চাহিদা থাকে চারশ থেকে সাড়ে চারশ। এর মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশিই ইউরোপ থেকে আমদানি করা হয়।

দেশে করোনারি স্টেন্ট বা হার্টের রিং আমদানিকারকদের ২৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪টিই ইউরোপীয় রিং আমদানি করে। আর আমেরিকা থেকে আমদানি হয় মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানের রিং।

ভিডিও দেখুন:উল্লেখিত কোম্পানিসহ সব ধরনের রিং ভারতের বাজারে মাত্র ৪০ হাজার রুপি বা ৫৫ হাজার টাকার কাছাকাছি বিক্রি হলেও, দেশে প্রতিষ্ঠানভেদে তা বিক্রি হত লাখ টাকার ওপরে। এমন নৈরাজ্য বন্ধে সম্প্রতি দাম নির্ধারণ করে দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। যা কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর থেকে।

এরপরেই হার্টের রিং সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দেয় ইউরোপ থেকে আমদানিকারক ২৪টি প্রতিষ্ঠান। 

হাসপাতালে সেবাগ্রহীতারা বলছেন, বর্তমান বাজার ও ডলারের দামের সঙ্গে সমন্বয় রেখে হার্টের রিংয়ের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হোক।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, রিং সরবরাহ বন্ধ রাখার চিঠি পেয়েছেন তাঁরা।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন জানান, মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করতে গেলে একটি ধস নামতে পারে। তাই সকলেরই উচিত হবে এই অচলাবস্থার অবসান করা। সকলকে নিয়ে বসে ডিজি ড্রাগের একটি ব্যবস্থা নিলেই সমাধান আসবে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর বলছে, ১৩ জন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শেই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল আলম বলেন, 'জীবন রক্ষাকারী পণ্য নিয়ে জিম্মি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোভাবেই মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে সাধারণ মানুষের জীবন হুমকিতে ফেলা কাম্য নয়।'