হৃদরোগের এখন আর কোনো বয়স নেই। ১৮ বছর থেকে শুরু করে বয়ঃবৃদ্ধ, যে কেউ আক্রান্ত হচ্ছেন হৃদরোগে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ২৫ ভাগেরই বয়স ৫০ বছরের কম। পরিশ্রম কমে যাওয়া, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও ধূমপানের কারণে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বাড়ছে, বলছেন চিকিৎসকরা।
টাঙ্গাইলের ফখরুল হাদির বয়স এখন চল্লিশ। বুকে ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে হার্টের রক্তনালিতে ধরা পড়ে ব্লক। পরানো হয়েছে দুটি রিং। পাশেই আরেক রোগী বশির আহমেদ বাবু। তাঁর ব্লক ধরা পড়ে তিনটি। তারও রিং লেগেছে দুটি। এই দুই রোগীই ভর্তি ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ)।
দেশের চারটি হাসপাতালে ভর্তি ৪ হাজার রোগীর ওপর গবেষণা করছে হার্ট ফাউন্ডেশন। এতে দেখা যায়, হৃদরোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৮ ভাগ রোগীর বয়স ৩০ বছরের কম। প্রতি ১০০ রোগীর ২৫ জনের বয়স ৫০ বছরের কম। দিনে দিনে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের রোগী বাড়ছে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কনসালটেন্ট অধ্যাপক ধীমান বণিক বলেন, 'অল্প বয়সেই এখন হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, যা দেশ ও জাতির জন্য অ্যালার্মিং। কারণ অল্প বয়সীরা যখন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়, তার পর থেকে সারা জীবন তাদের ওষুধ খেতে হয়। এ ছাড়া এ ধরনের রোগীরা কোনো ভারী কাজ, শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করতে পারে না।'
অল্প বয়সে হৃদরোগের পেছনে ধূমপানকে বড় কারণ বলছেন চিকিৎসকরা। এ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থেকেও হার্টের রক্তনালি ব্লক হতে পারে।
অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী জানান, চল্লিশ বছরের নিচে যেসব রোগীদের হার্টের সমস্যা হচ্ছে তামাক ব্যবহারের কারণেই তাঁরা হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া শারীরিক পরিশ্রম কম করা, চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া এবং শরীরের ওজন বেশি থাকার কারণেও বাড়ছে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, দেশে প্রতি বছর দুই লাখ ৭৩ হাজার মানুষ হৃদরোগে মারা যান।



