ভুলে যাওয়ার দুশ্চিন্তা কখন ফোবিয়া হয়ে যায়?

ফোবিয়া বলতে আমরা ভয় বুঝে থাকি। তবে ফোবিয়া মানে শুধু ভয় নয়। ভিত্তিহীন কারণে দুশ্চিন্তার নামই ফোবিয়া। অ্যাথাজাগরফোবিয়া একটি অপ্রচলিত অযৌক্তিক ভয়। যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি মনে করেন, তাকে অন্যরা ভুলে যাবে বা উপেক্ষা করবে অথবা তিনি উপেক্ষিত হবেন। অথবা ক্ষেত্র–বিশেষে তিনি অন্য কাউকে ভুলে যাবেন। কেউ কেউ এই ভুলে যাওয়ার ভয় এতো তীব্রভাবে ভোগেন যে তা ফোবিয়ার পর্যায়ে চলে যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন জিনগত এবং পরিবেশগত কারণ নির্দিষ্ট ফোবিয়া তৈরিতে ভূমিকা পালন করে। শৈশবের আঘাত, হয়ত তাকে পরিত্যাগ করা হয়েছিল অথবা পরিবারের কেউ যদি ডিমেনশিয়া আক্রান্ত থাকেন তবে স্মৃতিজনিত ফোবিয়া তৈরি হতে পারে।

গবেষণালব্ধ উপাত্ত এর নাম দিয়েছে ‘ডিমেনশিয়া দুশ্চিন্তা’। ডিমেনশিয়ার সঙ্গে দুশ্চিন্তা আক্রান্ত ব্যক্তির যে শুধু স্মৃতিশক্তিকে কমাচ্ছে সেটা নয় বরং তাঁর জীবনের গুণগত তৃপ্তির মান ও কমাচ্ছে, এর সঙ্গে বাড়তি উপহার দিচ্ছে দুশ্চিন্তা এবং বিষণ্নতা।

যদিও অ্যালঝাইমারস ডিজিস এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ডিমেনশিয়া নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা হচ্ছে। সেখান থেকে উঠে আসছে প্রত্যাশিত ডিমেনশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত দুশ্চিন্তা শুধু বার্ধক্যই নয় যে কোন বয়সেই, যেকোনো শারীরিক কারণেই এটা হতে পারে। পাশাপাশি এর সঙ্গে মানসিক (যেমন আত্মনিয়ন্ত্রণ হারানোর বা আত্মপরিচয় হারানোর ভয়) অথবা সামাজিক ভয় (কে যত্ন করবে) বা অন্যান্য স্বাস্থ্যজনিত দুশ্চিন্তা মনের মধ্যে বদ্ধমূল ভাবে গেড়ে বসে। এই 'ডিমেনশিয়াজনিত দুশ্চিন্তা' মৃদু থেকে তীব্রমাত্রায় থাকতে পারে। যা পরবর্তীতে অ্যাথাজাগরফোবিয়ায় পরিণত হতে পারে। 

লক্ষণ
এই রোগ নির্ভর করে রোগী কত তীব্রমাত্রায় আক্রান্ত। এই রোগের সঙ্গে দুশ্চিন্তার একটি ভালো যোগসূত্র রয়েছে এবং এর সঙ্গে শারীরিক এবং আবেগীয় বা ক্ষেত্রবিশেষে মনোদৈহিক লক্ষণও দেখা যায়। যেমন:

মানসিক লক্ষণ
১. আমাকে ভুলে যাওয়া হবে অথবা উপেক্ষা করা হবে অথবা আমি ভুলে যাব এই ধরনের মানসিক ভয় বা দুশ্চিন্তা করা।
২. অনিদ্রায় থাকা। 
৩. কেউ উপেক্ষা করছে কিনা, এ বিষয়ে অতি সতর্ক থাকা। 
৪. জীবনের আসন্ন ধ্বংসের অনুভূতিতে কুঁকড়ে থাকা। 
৫. সব সময় অন্যের কাছ থেকে নিরবচ্ছিন্ন আশ্বাস, মনোযোগ প্রত্যাশা করা। 

শারীরিক লক্ষণ
১. প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়া।
২. গায়ে ব্যথা করা।
৩. পেশিতে টান ধরা।
৪. বুক ধরফর করা।
৫. রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়া। 
৬. মাথা ঝিমঝিম করা।
৭. অস্থিরতা, স্নায়বিক দুর্বলতা।
৮. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
৯. ঘেমে যাওয়া।
১০. বমি বমি ভাব হওয়া।
১১. বিষণ্নতা।
১২. মনোযোগের অভাব।
১৩. সামাজিকভাবে মেলামেশার জায়গাগুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া বা এড়িয়ে যাওয়া। 

লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সিলর, সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার। ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, বাংলাদেশ