এখন মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোন ছাড়া অনেকে এক মুহূর্তও ভাবতে পারেন না। কোনো কারণে তাদের ফোন হারিয়ে গেলে তারা অনেক বেশি অস্থির হয়ে পড়েন। এতে মানসিক চাপ তৈরি হয়। মোবাইল ফোন নষ্ট হলে, হারিয়ে গেলে বা ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। এসব লক্ষণ 'নোমোফোবিয়া' হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে।
করণীয়
যদি নিজের মধ্যে নোমোফোবিয়ার লক্ষণ খেয়াল করেন, তাহলে একজন থেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলুন। তবে, মনে রাখবেন আপনি বেশি বেশি ফোন ব্যবহার করছেন বা ফোনের কথা চিন্তা করছেন বলেই যে আপনার নোমোফোবিয়া হয়েছে এমনটা কিন্তু না। তবে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে যদি নিচের উপসর্গগুলি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
নোমোফোবিয়ার উপসর্গ
১. দিনের বেশির ভাগ সময় ফোন ছাড়া থাকতে না পারা এবং বেশি সময় ধরে ফোন ব্যবহার করার প্রবণতা ও ইচ্ছা।
২. মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারলে তীব্র দুশ্চিন্তাবোধ।
৩. অধিক ফোনের ব্যবহার।
৪. অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের কারণে ঘুমের ক্ষতি।
৫. অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের কারণে প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে সমস্যা।
৬. ফোনের আসক্তির কারণে জীবনযাত্রার মান অথবা স্বাস্থ্য খারাপ হওয়া।
চিকিৎসা
নোমোফোবিয়া নিরাময়ে অনেক ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে মোবাইলের প্রতি আসক্তি কমানো হয়। এতে ফোন ছাড়লেই যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয় সেটাকেও সহনীয় করতে বিভিন্ন কাজের সঙ্গে রোগীকে সম্পৃক্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে তীব্রমাত্রায় ভয় থাকলে ওষুধের প্রয়োজন হয়। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া যাবে না। কিন্তু চিকিৎসক সব সময় আপনার সঙ্গে থাকবেন না। তাই সব থেকে ভালো হয়, নিজের যত্ন নিজে নেওয়া।
নিজের যত্ন কীভাবে নেবেন?
১. ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফোনটি বন্ধ করে দিন। প্রয়োজনে সকালে উঠার জন্য অ্যালার্ম দিন।
২. ঘুম বা বিশ্রামের সময় ফোন বিছানা থেকে দূরে রাখুন। যাতে রাতে ঘুম থেকে উঠে মোবাইল দেখতে না পারেন।
৩. বাসায় কিছুক্ষণের জন্য ফোন রেখে বাইরে বের হওয়ার অভ্যাস করুন। যখন আপনি হাঁটতে যাবেন অথবা গলির মোড়ের দোকান থেকে কিছু আনতে যাবেন তখন মোবাইল ছাড়া থাকুন।
৪. দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় মোবাইল, টেলিভিশন, কম্পিউটার ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন।
৫. বেশির সময় মোবাইল দেখার পরিবর্তে প্রতিদিন কিছু বই পড়া, চিঠি লেখা, হাঁটাহাঁটি বা বাইরে বেড়ানোর ছোট ছোট অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৬. বন্ধু–আত্মীয়স্বজন বা প্রিয়জনের সঙ্গে ফোনে কথা বলা কমিয়ে দিয়ে মুখোমুখি দেখা করার সুবিধাজনক নিয়ম তৈরি করুন। যদি তারা অন্য শহরে থাকেন তাহলে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে কথা বলার অভ্যাস করুন।
৭. অনলাইন নয় অফলাইনে সামাজিক যোগাযোগ রাখার যে অভ্যাসটা করোনাকালীন সময় আমাদের চলে গিয়েছিল সেটিকে আবার সজীব করুন।
বাচ্চাদের কীভাবে যত্ন নেবেন?
ইদানীং শিশুদের মোবাইল ফোন দিতেই হয়। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে ফোনটি যেন নিরবচ্ছিন্ন ভাবে তাদের হাতে না থাকে। একটু নিজের চোখে আয়না ধরা প্রয়োজন। আপনি ফোন ব্যবহার করছেন নাকি ফোন আপনাকে ব্যবহার করছে?
রবীন্দ্রনাথ চমৎকার করে বলেছেন, 'কলস যত বড়ই হউক না, সামান্য ফুটা হলেই তাহার দ্বারা আর কোনো কাজ পাওয়া যায় না। তখন যাহা তোমাকে ভাসাইয়া রাখে তাহাই তোমাকে ডুবায়।' কাজেই নিজেকে সামলে রাখুন।
লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সেলর সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বাংলাদেশ


নোমোফোবিয়া কি?
আপনারও কি আছে নোমোফোবিয়া?
