ছানি এমন এক রোগ, যেখানে চোখের স্বাভাবিক স্ফটিক লেন্সটি ধীরে ধীরে অস্বচ্ছ হয়ে যেতে শুরু করে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চোখের লেন্স পুরু, ঘোলা এবং অসংকোচনশীল হয়ে ওঠে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় লেন্সের ভেতরকার প্রোটিন এবং ফাইবারের একত্রে ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা। পরবর্তীতে ভেঙে যাওয়া প্রোটিন এবং ফাইবার মেঘের মত জমে তৈরি করে ক্লাউডি লেন্স বা ছানি।
ছানি কেন হয়
বেশি বয়স ছানি রোগের সবচেয়ে সাধারণ কারণ। ৪০ বছর বয়সের পর থেকে চোখের লেন্সের গাঠনিক পরিবর্তনের কারণে ছানি রোগ দেখা দেয়। আবার শিশুদের মধ্যে দেখা যায় জন্মগত ছানি।
একজন গর্ভবতী মা প্রথম তিনমাসে রুবেলা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে গর্ভস্থ শিশুটি কনজেনিটাল রুবেলা সিনড্রোম নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। যার ফলে শিশু জন্মগত ছানি রোগে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে–
১. চোখে আঘাত।
২. স্থূলতা।
৩. চোখে ঘন ঘন প্রদাহ।
৪. ডায়বেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ।
৫. ঘন ঘন সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আসা।
৬. বাইরে বের হলে সানগ্লাস ব্যবহার না করা।
৭. ওয়েল্ডিং এর কাজ করার সময় প্রতিরক্ষামূলক আই শিল্ড পরিধান না করা।
৮. বংশগত কারণ।
৯. মদ্যপান এবং ধূমপান।
১০. দীর্ঘকালব্যাপী স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের ব্যবহার।
লেখক: চিকিৎসক, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা