একজনের মনে কীভাবে বাসা বাঁধে অনেকে? জেনে নিন উপসর্গ

কখনো কখনো মানুষের মধ্যে একাধিক সত্তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। একে আমরা মানসিক ডিজঅর্ডার বলছি। ইংরেজিতে বলা যায়, Dissociative Identity Disorder (DID)। একই মনের ঘরে একাধিক ব্যক্তিসত্তার বা অস্তিত্বের সংকট। সহজ বাংলায়–একজনের মনে বহুজনের বাস। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি তার চিন্তা, স্মৃতি, পারিপার্শ্বিক কাজ এবং সত্তার মধ্যে যোগসূত্রটি হারিয়ে ফেলে। এই হারিয়ে ফেলাটি হয় অবচেতনভাবে হয়।

এটি একটি মানসিক রোগ যা রোগীর ব্যক্তিত্বে দ্বৈততা আনয়ন করে থাকে। রোগী নিজের স্মৃতি, ব্যক্তিত্ব ও বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে সাময়িককালের জন্য পরিচিত অথবা সম্পূর্ণ অলীক কোন স্মৃতি, ব্যক্তিত্ব বা বৈশিষ্ট্য ধারণ করে থাকে। এ রোগে রোগী নিজেকে অন্য কেউ ভাবতে শুরু করে। কথা বার্তা, চালচলন, আচার আচরণ ইত্যাদি সবকিছুতেই ভিন্নতা আসে।

উপসর্গ 
১. স্মৃতিভ্রষ্টতা। একটা নির্দিষ্ট সময় বা ঘটনা ভুলে যাওয়া। 
২. ব্যক্তিগত তথ্য ভুলে যাওয়া হতে পারে। 
৩. নিজেকে নিজের থেকে এবং চারপাশের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করা। 
৪. খুব অল্প শারীরিক ব্যথা অনুভব না করা।
৫. নিজের আবেগ অথবা কাজের চাপ বহন করতে না পারা। 
৬. মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন: বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা, আত্মহত্যা প্রবণতা থাকা।
৭. চারপাশের মানুষ এবং পারিপার্শ্বিক সম্পর্কে অবাস্তব এবং অসংগত বা বিকৃত ধারণা পোষণ করা।
৮. নিজের ব্যক্তিসত্তা সম্পর্কে আবছা ধারণা, আমি কে সেটা সম্পর্কে অনিশ্চিত থাকা। 

যখন আক্রান্ত ব্যক্তি এমন আচরণ করছেন, তখন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। আমরা মনে করি শিশুদের দামি খাবার, ভালো স্কুল, ভালো উপহার, পড়াশুনার বাইরে নাচ গান ছবি আঁকা ইত্যাদি শেখানোতেই যথেষ্ট। কিন্তু সব থেকে আগে শিশুকে তার অনুভূতি খোলাখুলিভাবে বাবা–মাকে বলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই বিষয়টি বাবা-মার দায়িত্ব, সেটা আমরা কখনোই মাথায় রাখি না। ফলে সমাজে শিশুর বেদনা, ভয়, রাগ, আনন্দ এই চারটি মৌলিক অনুভূতি অদৃশ্য থেকে যায় পর্দার অন্তরালে। 

লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সিলর, সাইকোথেরাপি প্র্যাক্টিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, বাংলাদেশ

আরও পড়ুন: