কমিউনাল নার্সিসিস্ট কী? এমন মানুষদের চিনবেন যেভাবে 

একজন কমিউনাল নার্সিসিস্ট তার চারপাশের বন্ধু, পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, আত্মীয়ের সামনে এমন আচরণ করেন, যেন তিনি অন্তঃস্থল থেকে বিশ্বাস করেন দেশ ও জাতি উদ্ধারে তিনি এক নিবেদিত প্রাণ!

কমিউনাল নার্সিসিস্টের বৈশিষ্ট্য
এক কথায় এটা বলা বেশ কঠিন, অমুক একজন কমিউনাল নার্সিসিস্ট । কারণ প্রথম দর্শনে তাদের ব্যক্তিত্ব আপনাকে আকর্ষণ করবে। আপনি মনে করবেন তিনি চমৎকার, যত্নশীল, তথাকথিত দায়িত্ববান একজন মানুষ। কিন্তু ধীরে ধীরে তার বিভিন্ন আচরণের মধ্যে আপনি ঠিকই টের পাবেন তার কথা এবং কাজের অমিলগুলো। তবে এটা বুঝতে আপনার অনেক সময় চলে যাবে। এবং দেখবেন প্রথমদিকে যেসব কথা বলে তারা আপনাকে আকর্ষিত করেছিলেন, তাদের সেই কথা এবং কাজের পরবর্তী কথার যোজন–যোজন ফারাক।

কমিউনাল নার্সিসিজমের লক্ষণ 
১. নিজেকে সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা।

২. বড় অংশের টাকা দান করে সবাইকে বলা এবং যারা দান করছেন না, তাদেরকে দান করা প্রসঙ্গে উপদেশ প্রদান করা।

৩. মুখে প্রচুর নীতিবাক্য আওড়ানো কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে নীতিবিরুদ্ধ কাজ করা।

৪. নিজের জ্ঞান, সক্ষমতা নিয়ে নিজেকে অতিরঞ্জিত করা। 

৫. অন্যের থেকে নিজের নৈতিকতাবোধ যে অনেক উপরে, সেটা বারবার প্রকাশ করা। 

৬. অন্যদেরকে সময় দেওয়া, উপহার দেওয়া বা প্রয়োজনীয় কাজ করে দেওয়া। যাতে করে এ কাজের মাধ্যমে অন্যরা তাকে গুরুত্ব দেয় বা তার প্রশংসা করে।

৭. এদের মধ্যে অন্যকে তাচ্ছিল্য করা, অযাচিত উপদেশ দেওয়ার প্রবণতা দৃশ্যমান।

৮. অন্যদেরকে দেখিয়ে দেখিয়ে বাড়তি দায়িত্ব নিতে ওস্তাদ, কিন্তু সেই কাজ করতে গিয়ে সত্যিকারের মনোযোগ দেন না। 

কীভাবে সামাল দেবেন এমন ব্যক্তিকে?
১. প্রথমত এদের সঙ্গে একটি সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। কেন সীমানা নির্ধারণ করতে যাচ্ছেন, সেটা তাদের বলাটা খুব বেশি লাভজনক হবে না। তারা যখন তাদের আবেগ নিয়ে আপনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে, তখন এই সীমানা প্রাচীর আপনাকে রক্ষা করবে।

২. আপনার সীমানা প্রসঙ্গে সুস্পষ্ট এবং দৃঢ় থাকুন। তাদের যেই যেই আচরণে আপনার অস্বস্তি তৈরি হয়, সেই জায়গাগুলোতে আপনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইলেও দৃঢ়ভাবে না বলুন। 

৩. এরা অনেক সময় আপনাকে এমনভাবে কথা বলবে, যেটা আপনাকে ধারণা দেবে কথাগুলো আপনাকে ছাড়া আর কাউকেই বলা হয়নি। এসব মিষ্টি কথায় ভুলবেন না।

 ৪. এরা বিভিন্নভাবে মিথ্যা পরিস্থিতি তৈরি করবে, প্রয়োজনে অন্যের কাছে আপনার সম্পর্কে সত্য–মিথ্যা বলবে। কিন্তু আপনি এদের প্রশংসা বা নিন্দা কোনোটাতেই গলে যাবেন না।

 ৫. নিজের আদর্শের প্রতি স্থির থাকুন। আর আপনার যেটা করণীয় তা হলো অন্য কারো থেকে প্রত্যাশা, প্রশংসা বা নিন্দা ছাড়াই আপনার কাজ করে যাওয়া। 

৬. এরা নিজের সততা নিয়ে বারবার আপনার কাছে বিশ্বস্ত হওয়ার চেষ্টা চালাবে। কিন্তু মনে রাখবেন, যে অন্যের নামে আপনার কাছে বদনাম করে, সে আপনার নামে অন্যের কাছেও অবশ্যই বদনাম করবে।  কাজেই নিজের মন যা বলে তা বিশ্বাস করুন। 

৭. এদের সঙ্গে দলীয় কাজ করতে গেলে এরা চমৎকারভাবে বিভাজনের রাজনীতি তৈরি করে দলের মধ্যে গন্ডগোল লাগিয়ে দেবে। কাজেই নিজের কাজটি সুচারু রূপে করুন। কারণ মিথ্যা বেশিদিন চাপা থাকে না।

৮. সম্ভবত এদের জন্যই বাংলা প্রবচনটি প্রযোজ্য। সেটি হল, ‘দুজন বাঙালি থাকলে তিনটা দল হয়, একটি তোমার দল, একটি আমার দল, আরেকটি আমাদের দল।’

৯. এরা সহকর্মী হিসেবে ভয়ংকর। মনে রাখবেন, এরা আপনার অগোচরে আপনার বিরুদ্ধে অন্যদের কাছে কান ভারী করবে। কাজেই এদের সঙ্গে যতটুকু কম সম্ভব যোগাযোগ রক্ষা করুন। 

১০. কিছু মানুষ কোনোভাবেই আপনাকে গ্রহণ করবেন না। এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। কারণ পৃথিবীর সবার কাছে সবাই কখনোই গ্রহণযোগ্য হয় না।

লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সিলর, সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার

আরও পড়ুন: