শিশুর কানপাকা রোগ হলে কী করবেন?

শিশুর কান থেকে পুঁজ বা পানি পড়াকে সাধারণত কানপাকা বা কান পঁচা রোগ বলা হয়। এটি শিশুদের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। যে কোনো বয়সেই কানপাকা সমস্যা হয়ে থাকলেও শিশুদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়। শহরের মানুষের তুলনায় গ্রামে বা বস্তি বা ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করা মানুষের মধ্যে রোগটি বেশি হতে দেখা যায়। পাশাপাশি নদীর তীরে বসবাসকারী জনগণের মধ্যে এই প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়। তবে উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে হয় না, তা কিন্তু নয়।

শিশুর কান পঁচার কারণ

শিশুকে সঠিক পদ্ধতিতে না খাওয়ালে অনেক সময় এ রকম বিপত্তি ঘটে। যেমন: আমরা অনেকেই শিশুকে চিত করে শুইয়ে খাবার দিয়ে থাকেন। এমনটি ঠিক নয়। এর কারণে অনেক সময় কানপাকার মতো সমস্যা হতে পারে। শিশুর গলায় বা শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশন থেকে কান পাকার সমস্যা হতে পারে। যাদের প্রায়ই সর্দি-কাশি লেগে থাকে তাদের এই সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া আরও কিছু কারণে কান পঁচা রোগ হতে পারে। এগুলো হলো:

১. গোসলের সময় কানে পানি ঢুকলে।

২. বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কানে দুধ ঢুকে গেলে।

৩. কান্নার পানি চোখ থেকে কানে ঢুকে গেলে।

৪. কান পরিষ্কার করতে গিয়ে কানের পর্দা ছিড়ে গেলে।

৫. গলার টনসিল বা এডিনয়েডে ইনফেকশন হলে।

৭. তালুকাটার সমস্যা থাকলে।

৮. অতিরিক্ত সর্দি কাশি বা ঠান্ডা লাগলে।

৯. অসতর্কতার সঙ্গে পুকুরে বা নদীতে গোসল করলে।

১০. অতিরিক্ত ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করলে।

কান পঁচার লক্ষণ

১. কানে ব্যথা বা ভারী অনুভব হওয়া।

২. কানে ব্যথা বা অস্বস্তি হওয়ার পর হঠাৎ করে কান থেকে পুঁজ বা অন্য কোনো ধরনের তরল বের হয়ে আসতে পারে।

৩. শিশুর অতিরিক্ত কান্নাকাটি করা এবং থামাতে না পারা।

৪. কান চুলকানি।

৫. কান দিয়ে পুঁজ আসা।

৬. কানের পিছনে লাল হয়ে যাওয়া।

৭. কানে কম শোনা।

৮. কান দিয়ে রক্ত মিশ্রিত তরল পদার্থ বের হওয়া।

৯. জ্বর আসা।

কান পাকলেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের জটিলতা হয় না। কিছু শিশুর একবার কানপাকা ভালো হয়ে গেলেও বারবার কান পাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই দ্রুত একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কেননা কাল ক্ষেপণ করলে তা জটিল হতে পারে। আপনার সন্তানের কানের যত্ন নিন।

লেখক: নাক,কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন