যক্ষ্মা এক প্রকারের বায়ুবাহিত ছোঁয়াচে রোগ। এটি মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রামক রোগ।
সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির কাশির মাধ্যমে এ রোগটি ছড়িয়ে থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তির কফ, কাশি, থুথু ও হাঁচির মাধ্যমে এর জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। আর তা শ্বাস–প্রশ্বাসের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়।
ফুসফুসে যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সুস্থ মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে যেতে পারে। যক্ষ্মার জীবাণু যে কেবল ফুসফুসকে আক্রান্ত করে তা নয়, এটি মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে ত্বক, অন্ত্র, লিভার, কিডনি ও হাড়সহ দেহের অন্য কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সংক্রমিত হতে পারে।
খুলনা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. তাহমিদা খানম বলেন, ‘আক্রান্ত ব্যক্তির একটানা ৩ সপ্তাহের বেশি কাশি, জ্বর, ক্ষুধামন্দা, শরীরের ওজন হ্রাস পেলে বুঝতে হবে এসব যক্ষ্মার লক্ষণ। কোনো ব্যক্তি যদি উল্লিখিত সমস্যাগুলোতে আক্রান্ত হন, তাহলে তাকে তাঁর নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। রক্ত- কফ পরীক্ষা এবং বুকের এক্সরে পরীক্ষার মাধ্যমে ফুসফুসের যক্ষ্মা নির্ণয় করা হয়। শরীরের অন্যান্য স্থানের যক্ষ্মা নিরূপণের জন্যও ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষা রয়েছে। যক্ষ্মা শরীরের কোন অঙ্গে হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে ৬ মাস হতে ২৪ মাস পর্যন্ত ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন হয়ে থাকে।’
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. তাহমিদা খানমের মতে, সঠিক সময় চিকিৎসা নেওয়া না গেলে এই জীবাণু শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে রোগীর মৃত্যু হতে পারে এবং চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে তার মাধ্যমে আরও অনেকের মধ্যে জীবাণুটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
যক্ষ্মা রোগের লক্ষ্মণের মধ্যে আছে অনেক দিন ধরে কফ, কাশি, বুকে ব্যথা, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, হঠাৎ শরীরের ওজন কমে যাওয়া ও জ্বর জ্বর ভাব।
করণীয়
যক্ষ্মার প্রতিকারে আছে আধুনিক চিকিৎসা। এই চিকিৎসা একবার শুরু করলে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত বন্ধ করা অনুচিত। আর যক্ষ্মা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস চর্চা করতে হবে। যেমন:
১. যেখানে সেখানে কফ-থুতু ফেলবেন না।
২. যেখানে সেখানে থুতু-কফ না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে ভালোভাবে জায়গাটি পরিষ্কার করুন বা মাটি চাপা দিন।
৩. নিজের ব্যবহৃত টিস্যু, রুমাল বা মাস্ক যেখানে সেখানে ফেলবেন না।
৪. কারও মুখের সামনে গিয়ে কথা বলবেন না।
৫. হাঁচি-কাশির সময় মুখে রুমাল দিন, তা না হলে অন্তত হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন কিংবা সবার সামনে থেকে একটু দূরে গিয়ে কাশি দিন।
৭. পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
৮. সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. তাহমিদা খানম মনে করেন, অনেক রোগী আছেন যারা যক্ষ্মার ওষুধ শুরু করে নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ না করেই ছেড়ে দেন। আক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়া তখন উক্ত ওষুধগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে যায়। এই ব্যাকটেরিয়া যখন অন্য রোগীর শরীরে প্রবেশ করে, তখন এই রোগীর ক্ষেত্রে উক্ত ওষুধগুলো আর কাজ করে না। তাই প্রত্যেক যক্ষ্মা রোগীকে নির্ধারিত মেয়াদের নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করতে হবে এবং সম্পূর্ণ চিকিৎসামেয়াদে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে।