গর্ভকালীন নারীরা প্রায়ই নানা ধরনের মানসিক চাপে পড়ে থাকেন। কোন কাজটা সকালে করা ঠিক হবে, আর কোন কাজটা বিকেলে করলে হবে, নাকি সেই কাজটা করাই উচিত না! এই নিয়ে সময়ে–অসময়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন তারা। আবার এই সময় কাজে মন না বসা, কোনো কিছু ভালো না লাগা, কাজকর্মে আগ্রহ কমে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অস্থির লাগার মতো নানা ঘটনা ঘটে।
ফলে মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। আর একই সঙ্গে বাড়তে থাকে অস্থিরতা। এই অস্থিরতা থেকে গর্ভকালীন নারীরা বিষণ্নতায় ভোগেন। গর্ভাবস্থায় বিষণ্নতার কারণে মানসিক সমস্যার পাশাপাশি নানা শারীরিক সমস্যাও হতে পারে। গর্ভাবস্থায় বিষণ্নতাকে হরমোনের সমস্যা মনে করা হয়। এই বিষণ্নতা থেকে মা ও অনাগত শিশুর ক্ষতির কারণও হতে পারে।
কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের স্ত্রী রোগ ও প্রসূতি বিদ্যার অধ্যাপক ডা. বিলকিস বেগম চৌধুরী বলেন, ‘গর্ভকালীন বা প্রসব-পরবর্তী সময়ে নারীর শরীরে বিভিন্ন হরমোনের মাত্রার ব্যাপক তারতম্য ঘটে। এর প্রভাবে নারীর দেহ ও মনের সার্বিক অবস্থার অনেক পরিবর্তন ঘটে। ফলে গর্ভস্থ শিশুর বেড়ে উঠা, নিরাপদ প্রসব, নিজের স্বাস্থ্য ইত্যাদি নিয়ে গর্ভবতী নারীর মনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বোধ কাজ করে।’
লক্ষণ
গর্ভধারণ থেকে শুরু করে প্রসব-পরবর্তী যে কোনও সময়ে মানসিক চাপে পড়তে পারেন একজন মা। যেমন–
১. অল্পতেই রেগে যাওয়া।
২. যে কোনো কিছুতেই মেজাজ খিটখিটে লাগা।
৩. কারণে–অকারণে মন খারাপ হয়ে যাওয়া।
৪. ঘুমের সমস্যা হওয়া।
৫. বিষণ্নতা বা হতাশায় ভুগতে থাকা।
৬. নিজেকে একা ভাবা, একা একা থাকতে পছন্দ করা।
গর্ভবতী মায়ের সার্বিক শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার উপর নির্ভর করে তার গর্ভস্থ শিশুর ভবিষ্যৎ। তাই এ সময় সেই মায়ের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। তা না হলে গর্ভস্থ শিশুর পুষ্টি ও বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। আবার সময়ের আগে প্রসব হতে পারে।
ডা. বিলকিস বেগম চৌধুরীর মতে, যে কোনো নারীর গর্ভধারণের পর নিয়মিত গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ সময়ে মায়ের পুষ্টি, পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি হবু মা’কে মানসিকভাবে চাপমুক্ত রাখতে হবে। এ সময়ে স্বামীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাহায্যের হাত বাড়াতে হবে।