এ বছর বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুও হচ্ছে। গত কয়েক দিনে দু-হাজারেরও বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। পরিসংখ্যান বলছে, সেপ্টেম্বরের ১১ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ। মারা গেছেন ১৯ জন। চলতি মাসেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামী মাসে আরও বাড়তে পারে ডেঙ্গু সংক্রমণ।
এডিস মশার কামড়ে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয় ডেঙ্গু জ্বর। এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায়। সাধারণত পুরানো টায়ার, ঢাকনাবিহীন চৌবাচ্চা, ড্রাম, পোষা প্রাণীর পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনে ফেলে রাখা বোতল ও টিনের ক্যান, দেয়ালে ঝুলে থাকা বোতল, পুরোনো জুতা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত খেলনা, ছাদ ও বাগান পরিচর্যার জিনিসপত্রে এডিস মশা জন্ম নেয়।
ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ জ্বর। এ সময় শরীরের তাপমাত্রা ১০২–১০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এর সঙ্গে দেখা দিতে পারে বমি, জ্বর, মাথা ও মাংশপেশিতে ব্যথা। এ ছাড়া শরীরের নানা স্থানে র্যাশ ওঠাই ডেঙ্গুর লক্ষণ। এডিস মশা দেখতে অন্যান্য মশার মতো নয়। এদের দেহে ও পায়ে কালো এবং সাদা দাগ থাকে। তাই এডিস মশা খুব সহজে চেনা যায়।
প্রতিকার
১. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া এই ডেঙ্গু জ্বর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কঠিন।
২. ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘরবাড়ির আশপাশে ডাবের খোল, ক্যান, টায়ার, ফুলের টবে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে হবে।
৩. মশারি ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া ফুল হাতা পোশাক পরতে হবে।
৪. এ সময় খাবার গ্রহণে অরুচি হলেও ডাবের পানি, ফলের জুস, লেবুর শরবত, খাবার স্যালাইন খেতে হবে।
৫. অনেকেই ডেঙ্গুতে প্লাটিলেটের হিসাব নিয়ে চিন্তা থাকেন। প্লাটিলেটের বিষয়টি চিকিৎসকের ওপর ছেড়ে দিন।
ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা দেখা দেয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়া। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলেই প্লাটিলেট কমে যায়। এর পেছনের কারণগুলো হলো:
১. ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে বোনমেরোর ওপর চাপ পড়ে। ফলে প্লাটিলেট উৎপাদনে বাধাগ্রস্ত হয়।
২. ডেঙ্গু আক্রান্ত রক্তকণিকা প্লাটিলেট ধ্বংস করে। আক্রান্ত রক্তকণিকার সংখ্যা যত বাড়ে প্লাটিলেট তত দ্রুত কমে।
৩. ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর শরীরে সংশ্লিষ্ট ভাইরাস ধ্বংসের জন্য নিজে থেকেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা প্রচুর পরিমাণে প্লাটিলেট ধ্বংস করে।