অ্যাপেল সিডার ভিনেগার পানের উপকারিতা

বেশ কয়েক বছর ধরেই ওজন কমানো, পেটের জমে থাকা মেদ কমানো, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার।

এই ভিনেগার ফার্মেন্টেড আপেলের জুস থেকে তৈরি করা হয়। আপেলে থাকা প্রাকৃতিক সুগার ফার্মেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহলে পরিণত হয় এবং এই অ্যালকোহল থেকে অ্যাসিটিক এসিড তৈরি হয়, যা ভিনেগারের একটি সক্রিয় উপাদান।

দোকানে দুই ফর্মের অ্যাপেল সিডার ভিনেগার দেখা যায়, ফিল্টার্ড (স্বচ্ছ) ও আনফিল্টার্ড। আনফিল্টার্ড ভিনেগারে প্রোটিন, এনজাইম ও কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া সংমিশ্রিত ‘মাদার’ থাকে। মাদারের জন্য এই ধরনের ভিনেগার দেখতে ঘোলাটে হয়ে থাকে। সর্বোত্তম ফলাফলের জন্য চিকিৎসকেরা মাদারযুক্ত অ্যাপেল সিডার ভিনেগার গ্রহণের পরামর্শই দিয়ে থাকেন।

জেনে নেওয়া যাক, অ্যাপেল সিডার ভিনেগার গ্রহণের কিছু উপকারিতা-

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ

অ্যাপল সিডার ভিনেগার শরীরের ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ানোর মাধ্যমে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ইনসুলিনের কারণে শর্করা বা গ্লুকোজ দেহের কোষে প্রবেশ করে বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহৃত হয়। খাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। টাইপ ২ ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য তাই অ্যাপল সিডার ভিনেগার অত্যন্ত উপকারী। 

ওজন

ওজন ঝরানোর জন্য খাওয়া–দাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে এই অ্যাপল সিডার ভিনেগার গ্রহণে বেশি উপকার পাওয়া যেতে পারে। এই পানীয় বিপাক হার বাড়িয়ে দেয়। ফলে হজম ভালো হয়। ক্ষুধা কম লাগে।

কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায়

বর্তমান বিশ্বে হৃদ্‌রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেড়েছে। রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে অ্যাপল সিডার ভিনেগার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য

অ্যাপল সিডার ভিনেগারে অ্যাসিটিক অ্যাসিড, ফ্ল্যাভোনয়েড ও অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে এবং শরীরকে সুস্থ রাখে। এই ভিনেগার পেটের রোগ এবং ত্বক ও টিস্যুর সংক্রমণের জন্য দায়ী বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে। এ কারণে আমাদের শরীর নানা সংক্রমণ থেকে মুক্তি পায়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

তবে অ্যাপেল সিডার ভিনেগারের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। অনেকে সকালে উঠেই খালি পেটে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার খান। এরপর দীর্ঘক্ষণ কিছু খান না। কিন্তু হজমশক্তি ঠিক রাখার জন্য এটি পানের ২০ মিনিট পরই কিছু খেয়ে নিতে হবে।

আমরা সাধারণত পানির সঙ্গে মিশিয়ে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার গ্রহণ করি। কিন্তু সরাসরি গ্লাস থেকে এটি পান করলে তা দাঁতের সংস্পর্শে আসে। এতে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে গিয়ে দাঁত ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। অনেকেই তাই স্ট্র দিয়ে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

তথ্যসূত্র: গুড ফুড