অসুখ বলেকয়ে আসে না। রাতে খাওয়ার সময় বুঝতে পারলেন খেতে গিয়ে মুখে কেমন জানি অস্বস্তি বা জ্বালা জ্বালা ভাব করছে। কোনো কারণে মুখে ঘা হলে এমন অনুভূতি হতে পারে। আমাদের মুখের ভেতরের নরম অংশের নাম মিউকাস মেমব্রেন। এই মেমব্রেনের ক্ষয় হলে মুখের ভেতরে ঘা বা ক্ষত হতে পারে। মুখে ঘা হলে অস্বস্তির সঙ্গে সঙ্গে ব্যথাও করতে পারে। এই ঘা বা ক্ষত এক দুই সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়।
মুখের এই ঘা বা ক্ষতকে আলসার বলা হয়। মুখের আলসার হল ছোট ছোট ঘা বা ক্ষত, যা মুখের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় যেমন ঠোঁট বা গালের ভেতরে, ঠোঁটের কোণে, জিহ্বার ওপরে বা নিচের অংশে হতে পারে। শরীরে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন সি, জিংক, ফোলেটের মতো কিছু স্বাস্থ্যকর উপাদানের ঘাটতির কারণে আলসার হয় মুখে। এ ছাড়া ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ বা শরীরে হরমোনের সমস্যার কারণে এই আলসার হতে পারে।
মুখে ঘা বা ক্ষত হলে অতিরিক্ত মসলা বা ঝালযুক্ত খাবার পরিহার করুন। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। খাদ্যতালিকায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট (ভিটামিন এ, সি, ই) সমৃদ্ধ খাবার খান। এছাড়া বার বার মুখের ঘায়ে হাত দেওয়া যাবে না। মুখগহ্বর সবসময় পরিষ্কার রাখুন। নিয়ম করে সকালে বা রাতে দাঁত ব্রাশ করুন। এ ক্ষেত্রে নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন।
আসুন জেনে নিন, মুখের ঘা থেকে রক্ষা পাওয়ার কিছু প্রাকৃতিক উপায়–
১. অ্যালোভেরার ঔষধিগুণের কথা আমরা সবাই জানি। অ্যালোভেরায় আছে অ্যান্টিইমফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল গুণ, ঘা শুকোতে সাহায্য করে। সতেজ অ্যালোভেরা গাছের শাঁস বের করে মুখের ঘায়ে লাগালে আরাম পেতে পারেন।
২. মধুর অনেক গুণ। মধুতে আছে অ্যান্টি মাইক্রোবায়াল, যা সংক্রমণ দূর করে। মুখে ঘা হলে মধু ব্যবহার করতে পারেন। ক্ষতযুক্ত স্থানে মধু লাগালে সেই জায়গাটি ঠান্ডা হবে। এতে জ্বালা ভাব অনেকটাই কমে আসবে।
৩. ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট মুখের আলসারের একটি চিকিৎসা হল নারকেল তেল। মুখে আলসার বা ঘা হলে নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। মুখের যেখানে ঘা বা ক্ষত, সেখানে তুলোর বল বা আঙুলের ডগায় সামান্য নারকেল তেল দিতে পারেন। এতে ক্ষতস্থানের জ্বালা জ্বালা ভাব কমবে।


ছোট মাছ খাওয়া কতটা উপকারী
চায়ের সঙ্গে যেসব খাবার খাওয়া উচিত নয়
