ডেঙ্গু জ্বরে রক্তের প্লাটিলেট নিয়ে যা জানা জরুরি

দেশে আবারও চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এবং আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা। আগস্টের চেয়ে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্ত রোগী বেড়েছে অনেক বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় ২ হাজার ৬৬৯ জন। আর মারা যান ১২ জন। এরপর আগস্টে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ২৭ জনের। আর আক্রান্ত হয় ৬ হাজার ৫২১ জন। আর ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ২৬৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪২ জনের।

ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এই ভাইরাস এডিস মশার মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনের শরীরে প্রবেশ করে। এডিস মশা স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। সাধারণত পুরোনো টায়ার, লন্ড্রি ট্যাংক, ঢাকনাবিহীন চৌবাচ্চা, ড্রাম, পোষা প্রাণীর পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনে ফেলে রাখা বোতলের পানিতে এডিস মশা জন্ম নেয়। এ ছাড়া পুরোনো জুতা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত খেলনা, ছাদে, বাগান পরিচর্যার জিনিসপত্র, ইটের গর্ত ও অপরিচ্ছন্ন সুইমিং পুলেও জন্ম নিতে পারে এই মশা। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থান, ডাবের খোল, ক্যান, টায়ার, ফুলের টবে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এ, কে, এম আরিফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ডেঙ্গু জ্বরে মূলত তিনটি ফেইজ থাকে। প্রথম ফেইজ হল জ্বর, গায়ে ব্যথা, হাড় জোড়ায় ব্যথা ইত্যাদি যা ৫ থেকে ৬ দিন পর্যন্ত থাকে। এই সময় রক্তে প্লাটিলেট কমে না। ডেঙ্গু জ্বরের দ্বিতীয় ফেইজে অর্থাৎ ৬ষ্ঠ দিন থেকে রক্তের অণুচক্রিকা কমতে থাকে এবং তা ৯ম দিন পর্যন্ত কমে, তাই এই ফেইজকেই ক্রিটিক্যাল ফেইজ বলা হয়, এই ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম দিন কোন জ্বর থাকে না কিন্তু এই সময় শরীরের যেকোনো স্থান থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে, প্লাজমা লিকেজ হতে পারে, পানিশূন্যতা হতে পারে, রক্তচাপ কমে যেতে পারে। এরপর ১০ম দিন থেকে প্লাটিলেট বাড়তে থাকে। ডেঙ্গু জ্বরের তৃতীয় ফেইজকে রিকভারি ফেইজ বলা হয়। এই সময় শরীরে হালকা চুলকানি হতে পারে। ১০ম থেকে ১৪তম দিনের মধ্যে রক্তের প্লাটিলেট এর পরিমাণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হয়ে যায়।’

মানুষের রক্তে তিন ধরনের রক্তকণিকার মধ্যে সবচেয়ে ছোটটির নাম প্লাটিলেট। যাকে বাংলায় অণুচক্রিকা বলে। অণুচক্রিকার উৎপাদন হয় অস্থিমজ্জায়। প্লাটিলেট রক্ত জমাট বাঁধতে ও রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে সাহায্য করে। ডেঙ্গু রোগীদের যেসব সমস্যা দেখা দেয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়া। আসুন জেনে নিন, প্লাটিলেট কমার লক্ষণ কী কী হতে পারে।

লক্ষণ

১. শরীরের কোনো ক্ষতস্থান থেকে অনেকক্ষণ ধরে রক্তপাত।

২.  আবার ত্বকের নিচেও রক্তক্ষরণ।

৩. ত্বকে বেগুনি রঙের ক্ষত হওয়া।

৪. শরীরে লাল বা কালো র‍্যাশ হওয়া।

৫. পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত।

৬. মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত।

৭. প্রস্রাব বা মলের সঙ্গে রক্তপাত।

৮. ক্লান্তিবোধ ও শরীরে পানিশূন্যতা।

আরো পড়ুন: