ফ্যাটি লিভারে যা জানা জরুরি

লিভারে অল্প পরিমাণ চর্বি থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত চর্বি জমলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়।  লিভার বা যকৃতে চর্বি জমা হলে সেটিকে ফ্যাটি লিভার বলে। লিভারে চর্বি জমার পাশাপাশি যেকোনো একটি বিপাকীয় রিস্ক ফ্যাক্টর (স্থূলতা, প্রেশার, ডায়াবেটিস বা রক্তে অতিরিক্ত চর্বি) থাকা মানেই ফ্যাটি লিভার।

সাধারণত ফ্যাটি লিভারে কোন উপসর্গ দেখা যায় না। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে, দীর্ঘদিন চিকিৎসা না হলে- একসময় লিভার ফেইলিউর হতে পারে। তখন- জন্ডিস, পেট ও পা ফোলা, রক্তবমি, ঘন কালো পায়খানা, চুলকানি, অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা, অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিতে পারে।

বিএসএমএমইউ এ কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রদীপ্ত চৌধুরী বলেন, ‘খাবারের বাড়তি অংশ শরীরের প্রয়োজনে জমা রাখতে লিভারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাধারণত খাদ্যের অতিরিক্ত শর্করা, চর্বিতে রূপান্তরিত হয়ে লিভারে জমে। বিপাকীয় গোলযোগের কারণে লিভারে চর্বি জমার পিছনে প্রধানত কাজ করে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা। তাই, স্থূলকায় ডায়াবেটিসের রোগীদের শতকরা ৭৫ জন ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হন। এছাড়া মদ্যপান, হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের ইনফেকশন, লিভারের জিনগত কিছু অসুখ, কিছু ওষুধের ব্যবহার, গর্ভাবস্থা, অপুষ্টি, এমন কী খুব দ্রুত ওজন কমাসহ আরও কিছু কারণে লিভারে চর্বি জমতে পারে।

করণীয়

১. চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া কমাতে হবে।

২. দীর্ঘক্ষণ বসে না থেকে কায়িক পরিশ্রম করতে হবে।

৩. ভাজাপোড়া, ফাস্ট ফুড পরিহার করা।

৪. কোমল পানীয়, চিনিযুক্ত শরবত বা জুস পরিহার করতে হবে।

৫.  ধূমপান পরিহার করতে হবে।

৬. খাদ্যতালিকায় সুষম খাবার রাখতে হবে।

৭.  শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

৮. মিষ্টিজাতীয় খাদ্য এড়িয়ে চলতে হবে।

৯. অফিসে একটানা  বসে অনেকক্ষণ কাজ করবেন না।

১০. উচ্চ তাপমাত্রায় তৈরি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

ডা. প্রদীপ্ত চৌধুরীর মতে, শরীরে জমে থাকা মেদ ঝরিয়ে ফেলা এই রোগ প্রতিরোধের ও প্রতিকারের- সবথেকে সহজ ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়। ফ্যাটি লিভার খুব বেশি অগ্রসর না হয়ে থাকলে শরীরের ওজনের ৫ শতাংশ-১০ শতাংশ কমিয়ে ফেললেই এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।