ডায়াবেটিস মানে সব শেষ নয়, প্রয়োজন জীবনযাপনে কিছুটা পরিবর্তন

বর্তমানে ডায়াবেটিস বহুল প্রচলিত একটি রোগ। প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডায়াবেটিসের রোগীর সংখ্যা। এটি চিন্তার বিষয় বটে। পরিবারের বয়স্করা যে কোনো সময় এই রোগের মুখোমুখি হতে পারেন। তবে, এখন এই রোগ বয়স দেখে হচ্ছে না। বয়স ও ওজনভেদে যে কোনো সময দেখা দিতে পারে এই রোগের প্রবণতা।

বিপাকজনিত রোগ ডায়াবেটিস। এতে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়। ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। তবে শরীরে ইনসুলিন গ্রহণের বিষয়টি রক্তের শর্করার মাত্রার উপর নির্ভর করে না। রোগী কোন ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তার উপর নির্ভর করে ইনসুলিন গ্রহণের মাত্রা।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির পুষ্টিবিদ ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ‘মূলত দুই ধরনের ডায়াবেটিসই বেশি দেখা যায়। এগুলো হলো– টাইপ ওয়ান ও টাইপ টু ডায়াবেটিস। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস সাধারণত তরুণ বয়সে দেখা দেয়। আবার টাইপ টু ডায়াবেটিসে যারা আক্রান্ত, তাদের অগ্ন্যাশয়ে যথেষ্ট ইনসুলিন উৎপন্ন হয় না। যাদের বংশে ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে, তাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ৪০ এর পরে সকলেরই ব্লাড সুগার চেক করা উচিত।’

যাদের হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে, তারা এই রোগে সহজেই আক্রান্ত হন। আবার পরিবারে ডায়াবেটিসের রোগী থাকলে, অন্যদেরও এই রোগর আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

পুষ্টিবিদ ফাতেমা তুজ জোহরার মনে করেন, ঘন ঘন পানির পিপাসা পেলে, কোনো কাজ করতে না করতেই দূর্বল হয়ে পড়লে, প্রস্রাবের মাত্রা বেড়ে গেলে, চোখে ঝাপসা দেখলে, সময়ে –অসময়ে ক্ষুধা লাগলে বা ওজন কমে গেলে বুঝতে হবে এটি ডায়াবেটিসের লক্ষণ।  এ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

করণীয়

১. ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন প্রণালী অনুসরণ করা প্রয়োজন।

২. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৩. ডায়াবেটিস হলে নিয়মিত হাঁটতে হবে। এ ছাড়া প্রতিদিন ব্যায়ামও করতে হবে।

৪. যখন যা খুশি তা খাওয়া যাবে না। নিয়ম করে খেতে হবে।

৫. অতিরিক্ত তেল, মসলাজাতীয় ও পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে।

সঠিকভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। ছবি: ফ্রিপিক৬. ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ঘুম খুব জরুরি। সঠিক সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে উঠা প্রয়োজন।

৭. খাদ্য তালিকা থেকে শর্করা বা মিষ্টিজাতীয় খাবারকে পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি সুষম খাবার খেতে হবে।

৮. নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

পুষ্টিবিদ ফাতেমা তুজ জোহরার মতে, ডায়াবেটিস হওয়া মানেই সব শেষ নয়। শুধু প্রয়োজন জীবনযাপনে কিছুটা পরিবর্তন। নিয়মিত ব্যায়াম এবং পরিমিতভাবে সঠিক খাবার ও চিকিৎসা নিলে প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।