২০২২ সালে হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল মার্কিন নাগরিক জেমস ব্ল্যাঙ্কেনশিপের। জটিল একটি ট্রিপল-বাইপাস হার্ট অপারেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তাকে। এরপর ‘ওয়াকিং ক্লাবে’ যোগ দেন ৬৮ বছরের এই ‘তরুণ’।
‘আমার কার্ডিওলজিস্ট জানিয়েছেন, আমি এখন দারুণ কাজ করছি’, উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন জেমস। নিয়ম করে হাঁটার ফলেই এমনটি সম্ভব হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে সহজ ব্যায়াম হলো হাঁটা। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রতি প্রথম পদক্ষেপ এই হাঁটা। আলাদা করে কোনো যন্ত্রপাতির দরকার নেই, যেতে হবে না জিমেও; হাঁটার জন্য প্রয়োজন শুধু আপনার সদিচ্ছা।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যও হাঁটা খুব ভালো একটি ব্যায়াম। দ্রুত হাঁটার মাধ্যমে ক্যালরি ক্ষয় করা যায়। তাছাড়া নিয়মিত হাঁটলে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথার ঝুঁকি কমে যায়।
কর্মশক্তি বাড়ানোর জন্যও হাঁটা একটি দারুণ ব্যায়াম। রক্তে ‘সুখী’ হরমোনের পরিমাণ বাড়িয়ে মানসিক শক্তি ও কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়ায় হাঁটা।
দিনে কতক্ষণ হাঁটবেন
সর্বোচ্চ উপকার লাভের জন্য দিনে ১০ হাজার কদম হাঁটার কথা শুনেছেন অনেকেই। এর সূত্রপাত ষাটের দশকে। জাপানে একটি বিজ্ঞাপনী প্রচারের কাজে প্রথম হাঁটার এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন, এটি নিছকই একটি নির্দেশিকা, যা সবার ক্ষেত্রে এক হওয়া উচিত নয়।
ব্যক্তিভেদে জীবনযাত্রার মান, ধরন ও ফিটনেস লেভেল অনুযায়ী হাঁটার হিসাব হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে এখন অনেকেই দিনে গড়ে তিন থেকে চার হাজার কদম হাঁটতে সক্ষম।
যত বেশি হাঁটা যাবে, ততোই এর উপকারিতা; এটাই মনে করেন গবেষক ও চিকিৎসকেরা। তবে শুরুতে একেবারেই হালকাভাবে হাঁটা শুরু করা উচিত। শারীরিক সক্ষমতা বাড়লে ধীরে ধীরে হাঁটার সময়টাকে বাড়ানো যেতে পারে।
হাঁটার অজস্র উপকারের পরও সামগ্রিক সুস্থতার জন্য এটি ‘যথেষ্ট নয়’ বলে মনে করেন একাধিক বিশেষজ্ঞ। কেননা, মাংসপেশি সুগঠিত করতে যে ‘রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং’ প্রয়োজন, সেটির উপযোগিতা হাঁটার মাধ্যমে মেলে না।
বিশেষ করে, নারীদের ক্ষেত্রে বয়সের সঙ্গে শরীরের জয়েন্টগুলোতে ব্যথা বাড়তে থাকে। এ সময় হাঁটার পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ইয়োগা বা স্ট্রেচিংয়ের মতো বিভিন্ন রেজিস্ট্যান্স অ্যাকটিভিটিজ চর্চা করা উচিত।
তথ্যসূত্র: ভয়েস অব আমেরিকা