বর্তমান যুগে অসুখ আমাদের চিরসঙ্গী। মানুষ যে কোনো সময়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। কিছু সাধারণ অসুখ আছে, সেসব অসুখের কারণে রোগীকে খুব বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় না। তবে, এমন কিছু রোগ আছে, যেসবের কারণে রোগীকে চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। তা না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা বাড়তে পারে।
আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন, যারা জটিল কোনো রোগ থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসকের কাছে যান। কিন্তু সামান্য সুস্থ বোধ করলেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। এতে পরবর্তীতে শারীরিক সমস্যা বাড়তে পারে।
এক্ষেত্রে যেটা বলা প্রয়োজন সেটা হলো, অনেকেই অসুস্থ হলে পাড়ার দোকান কিংবা গলির ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খান। এসব ওষুধ কেনার আগে কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের মত মতো করে ওষুধ খাওয়া একেবারেই ঠিক না। সেটা হোক জ্বর, সর্দি কিংবা কাশির মতো অসুখ।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী বলেন, ‘মানুষ অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। তবে আমাদের কাছে এমন রোগী আছেন, যারা আমাদের নির্দেশমতো ওষুধ খান না। এক মাসের টানা ওষুধ দিলেও দুই সপ্তাহ পর কিছুটা সুস্থ বোধ করলে, সে ওষুধ সেবন করা বন্ধ করে দেন। এতে রোগী ভোগান্তিতে পড়েন বেশি।’
অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী মনে করেন, শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রে ওষুধ অনেক দরকারি বিষয়। এ কথা প্রত্যেক রোগীর মাথায় রাখা প্রয়োজন। মানুষ রোগী ওষুধ সেবন করেন, অসুখ থেকে সেরে ওঠার জন্য। কিন্তু সে ওষুধ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা না থাকলে অনেক সময় হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণের পূর্বে কিছু বিষয়ে জানা প্রয়োজন। যেমন:
১. সব ওষুধ একই রকমের কাজ করবে না। একেক ওষুধের একেক ধরণ। কিছু ওষুধ খাবারের আগে আবার কিছু ওষুধ খাবারের পরে খেতে হয়। তাই কোন ওষুধ কোন সময়ে খাবেন, তা অবশ্যই চিকিৎসক থেকে ভালো করে জেনে নিন।
২. এমন কিছু ওষুধ আছে, যেসব ওষুধ অন্য ওষুধের সঙ্গে খেলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই নিজের খেয়াল খুশি মতো ওষুধ না খেয়ে, চিকিৎসকের পরামর্শপত্র বা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।
৩. চিকিৎসকের লিখে দেওয়া ওষুধ এক মনে সেবন না করে, কী ওষুধ? কেনো খাচ্ছি?—এসব বিষয় চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।
৪. এমন কিছু ওষুধ আছে, যেসব ওষুধ ঘরের ঠান্ডা বা শীতল স্থানে রাখতে হয়, আবার কিছু ওষুধ ঘরের সাধারণ তাপমাত্রায় রাখতে হয়। তাই কোন ওষুধ কোথায় কীভাবে রাখবেন তা জেনে নিন।
৫. রোগী চিকিৎসকের কথা মতো ওষুধ সেবন করে থাকেন। যে ওষুধই সেবন করেন না কেন,ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানা দরকার। অনেক সময় চিকিৎসকরা এসব কথা বলে দেন। তবে, চিকিৎসক না বললে আপনি এ বিষয়ে জেনে নিন।
৬. রোগীর উচিত ওষুধের কোর্স অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করা। মাঝপথে ওষুধ সেবন বন্ধ করে দিলে রোগীর ক্ষতি হতে পারে বেশি। তাই চিকিৎসকের পরামর্শপত্রের নির্দেশ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।
৭. ওষুধ সেবনের নিয়ম বা সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। চিকিৎসকেরা সবসময়ই ওষুধ খাওয়ার সময় নির্ধারণ করে দেন। ওষুধ সেবনের সময় বা নিয়ম ভুলবেন না।