দেশে একই সঙ্গে বাড়েছ করোনা ও ডেঙ্গুর প্রকোপ। এক মাসে করোনায় আক্রান্ত বেড়েছে তিনগুণ। আর জুনে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। এ ছাড়া ছয় মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রায় ৮ হাজার, যার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার আক্রান্ত হয়েছে এ মাসে। জুনে ডেঙ্গুতে ৮ মৃত্যু সহ এ বছর মারা গেছেন ৩২ জন। সংক্রমণ রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী বিল্লাল তালুকদার। কয়েকদিন ধরে ভুগছেন জ্বর-মাথাব্যথায়। বিল্লাল তালুকদার বলছিলেন, দুদিন ধরে জ্বর। টেস্ট করতে এসেছি।
ডেঙ্গু ও করোনা বাড়তে থাকায় বিল্লালের মতো জ্বর নিয়ে উদ্বিগ্নরা ভিড় করছেন হাসপাতালে।
ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আসিফ হায়দার বলেন, টেস্টে দেখা যাচ্ছে, প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে বা এ ধরনের সমস্যা নিয়ে অনেকে হাসপাতালে আসছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানাচ্ছে, এপ্রিলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৩, মে মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬। আর এ মাসের ২২ জুন পর্যন্ত আক্রান্ত ২৭৫। ১ জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত কারও মৃত্যু না হলেও, শুধু জুনের এ কদিনেই মারা গেছেন ১৬ জন।
একই সঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীও। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এ বছর মোট শনাক্ত রোগী ৭ হাজার ৭৫৮ জন। শুধু জুনেই আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার। গত মাসে ডেঙ্গুতে মারা গেছে ৩ জন; আর চলতি মাসের এক সপ্তাহ বাকি থাকতেই মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের।
এরই মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়েছে দেশব্যাপি। মোট শনাক্তের পঁচাত্তর শতাংশই এখন ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরের বাইরের রোগী। সচেতন না হলে অবস্থা সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, যখন রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়, তখন সংকট বেড়ে যাবে। এত রোগীর সেবা দেওয়া একসঙ্গে সম্ভব হয় না। মশার বংশ বিস্তারের জায়গা ধ্বংস করতে হবে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের জরিপ বলছে, বরগুনা,ঝিনাইদহ, মাগুরা, বরিশাল ও পিরোজপুরসহ ৮ জেলা ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা।
বর্ষা এলে প্রতি বছরই ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়ে, এর সঙ্গে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাসের নতুন ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ।