হামসহ ৬টি রোগের টিকা কিনতে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফকে ৬০৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সাথে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই ৬০৪ কোটি টাকার হামসহ ৬ রোগের টিকা আনার জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে, চেষ্টা চলছে দ্রুত আনার জন্য। এরই মধ্যে ইউনিসেফকে টিকা আনার জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে, এপ্রিল এর প্রথম সপ্তাহের মধ্যে টিকা চলে আসবে বলে আশা করছি।
তিনি আরও বলেন, টিকা এলে ভ্যাকসিন কর্মসূচি বাড়ানো হবে। আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হামসহ শিশুরোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারিভাবে আরও ২০টি ভেন্টিলেশন প্রস্তুত করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের পর দেশে হামের বিষযে কোনো ক্যাম্পেইন করা হয়নি। তাই সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে।
বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সংক্রমণ রোগ, নার্সিং সেবা উন্নীতকরণ, আইসিইউ সেবাসহ বিভিন্ন রকমের স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ৫ সদস্যের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রূপ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী মে মাসের মধ্যে এর রুপরেখা তৈরি করা হবে।
এদিকে ইউনিসেফ বলছে, শিশুদের টিকাদানের হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বড় অগ্রগতি অর্জন করলেও এখনো উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়ে গেছে; প্রায় পাঁচ লাখ শিশুর অবস্থা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইউনিসেফের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও ৪ লাখের মতো শিশু ঠিকমতো সব টিকা পায়নি এবং ৭০ হাজার (১ দশমিক ৫ শতাংশ) শিশু একেবারেই টিকা পায়নি।
তারা বলছে, শহর অঞ্চলগুলোতে টিকা না পাওয়ার হার বেশি- মাত্র ৭৯ শতাংশ পুরোপুরি টিকা পেয়েছে, ২ দশমিক ৪ শতাংশ এক ডোজ টিকাও পায়নি এবং ৯ দশমিক ৮ শতাংশ টিকার সব ডোজ ঠিকমতো পায়নি; সেই তুলনায় গ্রামাঞ্চলগুলোতে ৮৫ শতাংশ শিশু টিকার সব ডোজ পেয়েছে।
১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে এক বছরের কম বয়সী সকল শিশুদের ছয়টি সংক্রামক রোগের টিকা দেওয়ার মাধ্যমে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সাল থেকে আটটি সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে সরকার। এরপরও বিভিন্ন সময় রোগভেদে টিকার আওতা বাড়ানো হয়েছে।