হাম-ডেঙ্গু মোকাবিলায় আরও হাসপাতালে সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

হাম, ডেঙ্গু, কোভিডের মতো প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা দেখিয়েছে ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের মতো হাতেগোনা কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সক্ষমতা-সম্পন্ন সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা আরও বাড়ানো উচিত। একই সঙ্গে, মহামারি ঠেকাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ভূমিকা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন তারা। 

হাম আক্রান্ত সন্তানের সুস্থতার জন্য কোলের শিশুর এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটে চলার ভোগান্তি বাবা মার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো। সঠিক চিকিৎসা পেতে ভোগান্তির যেন শেষ নেই। তবে কয়েকটি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় সন্তুষ্ট রোগীর স্বজনেরা। 

সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে আসা এক অভিভাবকের অভিযোগ করে বলেন, ‘শিশু মেডিকেলে যাওয়ার পর আমাকে একদিন ওয়েট করার পর ওইখানে আমাকে সিট দেওয়া হয়নি। ওইখানে দালালে ভরা।’

আরেক রোগীর স্বজন বলেন, গাজীপুর থেকে এখানে পাঠানো হয়েছে। এখানে মোটামুটি চিকিৎসা সেবার মান ভালো। চিকিৎসার দিক দিয়ে আমরা নার্স এবং ডাক্টারদের ভালো সেবা পাচ্ছি।’

রোগীদের সেবা দিতে পেরে সন্তুষ্ট ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও। 

ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. দেবব্রত রায়, ‘আমাদের এখানে ৯ হাজার ৯৫৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৬৫ জন রোগী মারা গেছে। যে মৃত্যুর রেটটা এক শতাংশেরও অনেক কম। আমরা এইখানে সবকিছু রোগীর সন্তুষ্টির লেভেলে দেওয়ার চেষ্টা করছি। সে অনুযায়ী এখানে হামের মৃত্যুর হার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম।’ 

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের উচিত ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের মতো সেবাদানে সক্ষম হাসপাতালের সংখ্যা আরও বাড়ানো।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘প্রত্যেকটি হাসপাতালে আইসোলেটেড হামের চিকিৎসা করা দরকার। হয়েছেও, কিন্তু পুরোপুরি হয়নি। যে সমস্ত জেনারেল হাসপাতালে অন্যান্য রোগীরাও আছে সেখানে এটার ব্যবস্থা করাটা একটু কঠিন। কিন্তু তারপরেও জনস্বার্থে এটা জরুরি কাজটা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে করতে হবে।’

কোভিড, হাম কিংবা ডেঙ্গুর মত দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ভূমিকা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের।