চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন মাইলফলক স্থাপন করলেন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকেরা। জন্মের আগেই মায়ের গর্ভে থাকা শিশুর জটিল জন্মগত ত্রুটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলভাবে সারিয়ে তুলেছেন তারা। এই যুগান্তকারী অস্ত্রোপচারের পর ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নেওয়া পাঁচ মাস বয়সী শিশু থিও সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে।
পাঁচ মাসের থিও। একেবারেই সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে। নেই কোনো শারীরিক জটিলতা। তবে মায়ের গর্ভে থাকার সময় এমনটা ছিল না। জটিল রোগ গ্যাস্ট্রোস্কিসিসে আক্রান্ত ছিল থিও। এটি এমন রোগ যেখানে শিশুর নাভি স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয় না। ফলে অন্ত্রসহ কিছু অঙ্গ পেটের বাইরে বেড়ে ওঠে।
রোগটি যখন ধরা পড়ে, তখন থিওর মা ২৯ বছর বয়সী লন্ডনের বাসিন্দা মেইজি স্যাভেজের গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ চলছে। আল্ট্রাসাউন্ডে সন্তানের রোগের কথা জানতে পেরে ছুটে যান বিশেষজ্ঞদের কাছে।
লন্ডনের চিকিৎসকের পরামর্শে মেইজি চিকিৎসার জন্য যান যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস চিলড্রেনস হাসপাতালে। এর মধ্যে পেরিয়ে যায় ছয় সপ্তাহ। করা হয় অস্ত্রোপচার।
তবে অস্ত্রোপচারের আগে বেলজিয়ামের সুভেন হাসপাতালে নেওয়া হয় মেইজিকে। সেখানে মায়ের জরায়ুর মাধ্যমে ভ্রূণের পেটের দেয়ালে বোটক্স ইনজেকশন দেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে পেশি শিথিল হয়ে অস্ত্রোপচার সহজ হয়।
জটিল এই অস্ত্রোপচারের সময় মায়ের জরায়ুর একটি অংশ উন্মুক্ত করে অত্যাধুনিক কী-হোল বা সার্জারির মাধ্যমে শিশুর বাইরে থাকা অঙ্গ ধীরে ধীরে পেটের ভেতরে ঢুকিয়ে দেন চিকিৎসকরা। পরে ক্ষতস্থান সেলাই করেন। বিশ্বে প্রথম এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সফলভাবে চিকিৎসা পাওয়া তৃতীয় শিশু থিও।
টেক্সাস চিলড্রেনস হাসপাতালের প্রধান ফিটাল সার্জন ড. মাইকেল বেলফোর্ট বলেন, ‘এ পর্যন্ত ফলাফল আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও ভালো। মা ও শিশু—দুজনই সুস্থ। অস্ত্রোপচারের সময় বা পরে কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি। সবকিছু এত সুন্দরভাবে হয়েছে, যা সত্যিই অসাধারণ।’
অস্ত্রোপচারের পর আরও ১৪ সপ্তাহ গর্ভে বেড়ে ওঠে থিও। ফেব্রুয়ারিতে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তার জন্ম হয়।
থিওর মা মেইজি স্যাভেজ বলেন, ‘থিও আমাদের ছোট্ট অলৌকিক সন্তান। চিকিৎসকদের কারণে ওর জীবনের শুরুটা কঠিন হয়নি। এখন সে একেবারেই স্বাভাবিক একটি শিশুর মতো বেড়ে উঠছে।’
যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর প্রায় তিন হাজার নবজাতকের মধ্যে একজন গ্যাস্ট্রোস্কিসিস রোগ নিয়ে জন্মায়।
চিকিৎসকদের আশা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফল হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যেও এই অস্ত্রোপচার নিয়মিতভাবে করা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে জন্মের আগেই হৃদযন্ত্র, ফুসফুসসহ আরও জটিল রোগের চিকিৎসার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।