ঢামেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি, প্রাণঘাতী জীবাণু ছড়ানোর শঙ্কা 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বর্জ্য থেকে এইডস, হেপাটাইটিসের মতো অতি সংক্রমণ ক্ষমতার জীবাণু ছড়ানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসায় ব্যবহৃত সুঁই-গজ-তুলাসহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উদাসীন কর্তৃপক্ষ। এসব সংগ্রহে নেয়া হয় নামমাত্র সুরক্ষা ব্যবস্থা। ফেলে দেয়া বর্জ্য পুরান ঢাকায় নিয়ে, আবারও ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেন্দ্রীয় বর্জ্য সংরক্ষণ ঘর। সার্জারি, হেমাটোলজি, রেডিওলজি, রেসপিরেটরিসহ ত্রিশটির বেশি বিভাগ থেকে রোগীর ব্যবহার করা বর্জ্য আনা হয় এখানে। এসব সংগ্রহের দায়িত্বেও আছেন নির্দিষ্ট কর্মী।

বর্জ্য সংগ্রহকারীরা অবশ্য সংক্রমণের তোয়াক্কা করেন না। কাজের সময় তারা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেন না। রক্তমাখা সুঁই-সিরিঞ্জ-স্যালাইন ব্যাগসহ নানা জিনিস পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করছেন কর্মীরা।

বর্জ্য সংগ্রাহক বলেন, ‘সব জায়গায় লাগলে তো আর ইনফেকশন হয় না। ধরুন কোনোভাবে, হাতের রগে লেগে গেল, তাহলে হবে। কিছুই করার নাই। এসব বর্জ্য সরাতে গিয়ে কোথাও কেটে গেলে পচন ধরে, ঘাঁ হয়ে যায়।’

আরেক বর্জ্য সংগ্রাহক বলেন, ‘চা–নাস্তা খাওয়ার জন্য কিছু বর্জ্য (প্লাস্টিক বা অন্যান্য) বিক্রি করি।’ 

ঢাকা মেডিকেলের প্রশাসনিক ভবনের ভিতরে পরিচালকের রুম। এর একটু দূরেই চলছে এ কার্যক্রম। উচ্চ সংক্রমণের জন্য দায়ী বর্জ্য যে লাল ও হলুদ বিনে ফেলা হয়, সেগুলোর ব্যবস্থাপনায়ও আছে চরম উদাসীনতা।

একজন বর্জ্য সংগ্রাহক বলেন, ‘একটা ওয়ার্ডে চারটি ময়লার ড্রাম থাকে। এখন এক ওয়ার্ডে যদি চারবার যাই, এটা সম্ভব? এ কারণে আমরা সব একসাথে নিয়ে এসে মাতুয়াইলে নিয়ে ফেলে দিয়ে আসি।’ 

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক। এছাড়া একাজে দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতি পেলে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বর্জ্যের ড্রাম আলাদা রং করার কারণই কিন্তু প্রত্যেকটার ডিসপোজাল আলাদা আলাদা হবে– সে কারণে। আমাদের কর্মচারীরা হয়তো ঠিকভাবে আলাদা করে রাখে না। পরবর্তীতে আলাদাভাবে হয়তো নেয় না। এটা এক ধরনের দুর্নীতি।’  

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা.বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘একেবারে সর্বোচ্চ হাসপাতাল থেকে সর্বনিম্ন হাসপাতাল পর্যন্ত এই মেডিকেল বর্জ্যের ব্যবস্থাপনাটা ঠিকমতো হচ্ছে না। বিভিন্ন মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে মারাত্মক সংক্রমণের যে নানাধরনের জীবাণু তৈরি হচ্ছে সেটাকে আমরা প্রকৃতিতে ফেলে দিচ্ছি। প্রকৃতির মাধ্যমে সেটা পানিতে যাচ্ছে। সেটা বাতাসে মিশে যাচ্ছে।’  

হাসপাতাল থেকে এসব চিকিৎসা বর্জ্য ফের বাজারে আনতে কাজ করছে অসাধু চক্র। পরিষ্কারের পাশাপাশি কখনো কখনো রঙ করে নতুন পণ্যের রুপ দিয়ে বিক্রিও করছে।