বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস

'মানসিক স্বাস্থ্য সর্বজনীন মানবাধিকার'

আজ ১০ই অক্টোবর, বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি মানুষের মনোজগতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবখানেই কিছু দূষিত আবহাওয়া আমাদের মনোজগতকে প্রভাবিত করছে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, 'আমাদের মন আমাদের অধিকার'  (Our minds, our rights)। এ বছরের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য, 'মানসিক স্বাস্থ্য সর্বজনীন মানবাধিকার ' (Mental health is a universal human right)।

এই দিবস উদযাপন উপলক্ষে আমাদেরকে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে ব্যক্তি মানুষ এবং তার সমষ্টিতে তৈরি সমাজ একই সুতোয় গাঁথা। কাজেই মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গেলে প্রথমত জানার আগ্রহ থাকতে হবে, এই কারণে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। এই জ্ঞান এবং সচেতনতার উপর ভর করেই সুরক্ষা করা সম্ভব হবে সর্বজনীন মানসিক স্বাস্থ্য অধিকার।
কারণ মানসিক স্বাস্থ্য একটি মৌলিক অধিকার। কাজের প্রত্যেকটা মানুষ তিনি যেই হন, যেখানেই থাকেন, তার অধিকার আছে সর্বোচ্চ সুবিধা সম্পন্ন মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির। পাশাপাশি তার অধিকার আছে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে আত্মসুরক্ষার, অধিকার আছে ভালো মানের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের। শুধু তাই নয়, সেই মানুষটির অধিকার আছে এবং স্বাধীনতা আছে বৃহত্তর সমাজে অন্তর্ভুক্তির। তিনি ট্রান্সজেন্ডার, প্রান্তিক, ছিন্নমূল, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, যৌনকর্মী যাই হোন না কেন। কারণ একজন মানুষ হিসেবে আরেকজন নাগরিকের সমপরিমাণ মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির অধিকার তার আছে।

ভালো মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের শারীরিক, সামাজিক এবং আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক সুফল আনে। এক কথায় ভালো থাকার বিষয়কে প্রভাবিত করে। যদিও বৈশ্বিক মানচিত্রে প্রতি আট জনের একজন মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকিতে আছেন। যা তাদের শারীরিক স্বাস্থ্য এবং সার্বিক ভালো থাকাকে ব্যাহত করছে। শুধু কি তাই? অসুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের অন্যদের সঙ্গে আন্ত–সম্পর্ককেও দূষিত করছে, জীবনযাত্রার গুণগতমান কমিয়ে দিচ্ছে। আশঙ্কার কথা হলো, তরুণ প্রজন্ম এবং কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ভয়ংকর অবনতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। যা শুধুমাত্র মনোদৈহিক নয় ভবিষ্যতে ব্যাপক মনোসামাজিক নেতিবাচক প্রভাব ও বিস্তার করবে। ইতিমধ্যেই বর্তমান বিশ্ব তার কিছুটা ছোঁয়া পাচ্ছে। বাংলাদেশে কিশোর গ্যাং এর উদ্ভব তাই বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। এই ক্রান্তিকালে এটি একটি প্রতিচ্ছবি।

মানুষ ক্রমান্বয়ে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে মানুষের সমাজ বিচ্ছিন্নতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। এই লেখাটি যারা পড়ছেন তাদেরকে অনুরোধ করব, আসুন একটু নিজের চোখে আয়না ধরি! একটু ভাবি, আমার নিজের এবং পাশের মানুষটির মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমি কি করছি? এই পাশের জনটি হতে পারেন আমার সন্তান, জীবনসঙ্গী, বাবা মা, গৃহকর্মী, সহকর্মী, সহযাত্রী। মনে রাখতে হবে পাশের জন ভালো না থাকলে সেই আগুনের আঁচ আমিও পাব। কারণ দিনশেষে, we are not independent we are interdependent।

লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সেলর সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বাংলাদেশ।