তাপপ্রবাহ এখন আর হঠাৎ করে আসে না। বরং আগেভাগেই শুরু হয়। আর দীর্ঘ সময় ধরে থাকে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন কষ্টে পড়ে, তেমনি হৃদরোগীদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই সময়টায় সামান্য অসতর্কতাও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুশীলা কাটারিয়া বলেন, ‘এখন তাপমাত্রা শুধু বাড়ছে না, খুব দ্রুত বাড়ছে এবং অনেকক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে। এর প্রভাব ইতিমধ্যে রোগীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মাথাব্যথা, বমিভাব বা মাংসপেশিতে টান নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। এগুলো আসলে হিট স্ট্রেস বা গরমজনিত চাপের প্রাথমিক লক্ষণ।’
তবে হৃদরোগীদের জন্য বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। কারণ তাদের শরীরে পানির ভারসাম্য খুব সতর্কভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। ডা. কাটারিয়া বলেন, ‘সামান্য বেশি পানি খেলেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে, আবার কম পানি খেলে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা তৈরি হয়, যা রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে।’
গরমকালে আরেকটি বড় সমস্যা হলো শরীর থেকে যে পানি বেরিয়ে যাচ্ছে, সেটি অনেক সময় বোঝা যায় না। তাপমাত্রা বাড়লে ঘাম ছাড়াও ত্বক ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বের হয়। কিন্তু এই ক্ষতির পরিমাণ মাপা সহজ নয়। ফলে অনেকেই বুঝতে পারেন না, শরীর কতটা পানি হারাচ্ছে। যখন লক্ষণ দেখা দেয়, তখন ভারসাম্য ইতিমধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়।
এই সময় নিজের মতো করে ওষুধ পরিবর্তন করা ঠিক নয় বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। বরং গরমের শুরুতেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। বিশেষ করে যেসব ওষুধ শরীর থেকে পানি বের করে দেয় (ডাইইউরেটিক), সেগুলোর ডোজ পরিবর্তন দরকার হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে ওষুধ কমাতে হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে পানি খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতে হতে পারে। ছোট ছোট এই পরিবর্তনগুলো শরীরকে গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।
তিনি আরও কিছু সহজ অভ্যাসের কথাও বলেছেন, যা আগাম সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে। যেমন প্রতিদিন নিজের ওজন মাপা। হঠাৎ করে ওজন কমে গেলে তা ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। আবার একদিনে হঠাৎ এক কেজি বা তার বেশি ওজন বেড়ে গেলে শরীরে পানি জমার ইঙ্গিত হতে পারে। এই সহজ পর্যবেক্ষণগুলো অনেক সময় বড় সমস্যার আগে সতর্ক করে দেয়।
তাপপ্রবাহে কীভাবে সতর্ক থাকবেন
গরমে নিজেকে ঠিক রাখা অনেকটাই পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে। দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না যাওয়াই ভালো, যদি না খুব জরুরি হয়। বাইরে গেলে হালকা রঙের আর ঢিলেঢালা এমন কাপড় পরা ভালো।
এয়ারকন্ডিশনড ঘরে যেটা আরামদায়ক মনে হয়, বাইরে সেটি সব সময় কার্যকর নাও হতে পারে। তাই বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার করা, সঙ্গে পানি রাখা এবং হাঁটা-চলার গতি কিছুটা কমিয়ে রাখা জরুরি।
চিকিৎসকেরা বলছেন, তাপপ্রবাহে বড় ধরনের সতর্ক সংকেত সব সময় স্পষ্টভাবে আসে না। অনেক সময় ধীরে ধীরে শরীরে ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা পরে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই আগে থেকেই সচেতন থাকা জরুরি।
সব মিলিয়ে, গরমের এই সময়ে বিশেষ করে হৃদরোগীদের একটু বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ছোট ছোট অভ্যাস আর সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ। এই দুইয়ে অনেক বড় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
তথ্যসূত্র: টাইমস নাও নিউজ