অফিসের বাড়তি কাজের চাপ সামলাবেন কীভাবে

মরিয়ম একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। প্রতিষ্ঠানের সবাই তাঁকে অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং নিবেদিত কর্মী হিসেবেই জানেন। মরিয়ম কাজে খুবই পারদর্শী এবং প্রায় সময় তিনি প্রতিষ্ঠানে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।
সম্প্রতি মরিয়মদের দল নতুন একটা প্রজেক্ট পায়। যেখানে দলনেতা হিসেবে তিনি দায়িত্ব পান। তাই অফিসের কাজে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকায়  নিজের জীবনের পাশাপাশি পারিবারকে সময় দিতে পারেন নি।

অফিসের অতিরিক্ত কাজের চাপ, যে কারো জীবনে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করতে কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণের কিছু কৌশল জানা খুব জরুরি। আসুন জেনে নেই এরকম কিছু কৌশল।

কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করুন
আমাদের প্রতিদিনের কাজগুলো ভালোভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি রুটিন থাকা জরুরি। যেমন: কোন কাজগুলো সবচেয়ে বেশী প্রয়োজনীয় আর কোন কাজটি পরেও করা যেতে পারে তা আগে থেকেই যদি নির্ধারণ করে নেই, তাহলে আমরা সময়ের কাজ সময়ে করতে পারি। পরিকল্পনা করে একটি তালিকা তৈরি করে নিলে কম পরিশ্রমে সঠিকভাবে কাজগুলো গুছিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব।

কাজের চাপ বেশির মুহূর্তগুলো মোকাবেলা করুন
যে সব কাজ আমাদের বেশি চিন্তায় ফেলে, সেসব কাজ কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় তা জানা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, যদি আমরা একাধিক মানুষের সামনে কথা বলতে বা কোনো প্রেজেন্টেশন দিতে নার্ভাস বোধ করি, তাহলে আমরা কাছের একজন বন্ধুর সামনে কাজটির অনুশীলন করতে পারি।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন
সুস্থ থাকার জন্য এমন কিছু করা গুরুত্বপূর্ণ যা আমাদের শরীর ও মনকে ভালো রাখে। এরমধ্যে রয়েছে ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া বা ধ্যানের মতো আরামদায়ক কাজ করা এবং সময় মতো বিরতি নেওয়া। আমাদের মনে রাখা উচিত, শুধু কাজের উপর ফোকাস করলেই হবে না নিজেদেরকেও সময় দেওয়া প্রয়োজন।

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক তৈরি করুন
একাকিত্ব আমাদের মধ্যে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। মন ভালো রাখার জন্য বন্ধু এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলা এবং সময় কাটানো জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ পুরো সপ্তাহ জুড়ে কাজ করে, তাহলে সপ্তাহান্তে তাদের অবসর সময় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে পারে বা বিনোদনমূলক কার্যকলাপে অংশ নিতে পারে।

জীবনের পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে শিখুন
কখনও কখনও জীবনের কিছু পরিবর্তন যেমন: অফিস পরিবর্তন বা নতুন কোন জায়গায় যাওয়া, এই পরিবর্তনগুলো আমাদের চাপ দিতে বা চিন্তিত করে তুলতে পারে। কিন্তু এটা জানা প্রয়োজন, পরিবর্তন জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ। পরিবর্তনগুলোকে খারাপ হিসাবে না ভেবে আমাদের উচিত সেগুলোকে ভালোভাবে নেওয়া।

কার্যকরী যোগাযোগ করতে শিখুন
কর্মক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে কথা বলা এবং কথা শোনা জরুরি। আমাদের কাজে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার গুরুত্ব অনেক। যখন আমরা আমাদের চিন্তাভাবনা শেয়ার করি, তখন তা আমাদের একসাথে ভালোভাবে কাজ করতে সাহায্য করে এবং প্রত্যেককে তাদের নিজ নিজ কাজ নিয়ে সন্তুষ্টি বোধ করে।

কাজের সুন্দর পরিবেশ তৈরি করুন
একটি সুন্দর গোছানো পরিবেশ আমাদের কাজের চাপকে শিথিল ও সহজ করে দেয়। এরকম পরিবেশে কাজ করতে আমরা সাধারণত স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি এবং আনন্দের সাথে কাজ করতে পারি।

সূত্র: স্পিড বিডি—করপোরেট প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট উইং