অফিসে ক্লান্তি দূর করতে যা করবেন

জীবিকার তাগিদে আমাদের বিভিন্ন পেশায় কাজ করতে হয়। একেক পেশার কাজের ধরণ একেক রকম। আর এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কখনো কখনো লম্বা সময় ধরে কাজ করতে হয়। তখন সময়ের দিকে তাকানোর আর খেয়াল থাকে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে হতে পারে স্বাস্থ্যহানি। মানসিক অবসাদেও ভুগতে পারেন।

এতে শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন–  হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, মেরুদণ্ডে ব্যথা, মাথা ব্যথা, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, মানসিক অবসাদ, খিটখিটে মেজাজ, কাজের প্রতি বিরক্তি ইত্যাদি। দীর্ঘ সময়ের কাজের অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে যা করতে পারেন, এবার চলুন তা দেখে নেওয়া যাক।

  • পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম সবচেয়ে ভালো টনিক। রাতে ঠিকমতো ঘুম হলে সারা দিনই শরীর-মনে সতেজ ভাব থাকে, খুব সহজেই ক্লান্তি আসে না। তাই যত ব্যস্তই থাকুন না কেন, চেষ্টা করুন রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা লম্বা একটা ঘুম দেওয়ার।
  • দিনের শুরুতেই পর্যাপ্ত আহার আপনার শরীরে এনে দেবে বাড়তি কাজ করার ক্ষমতা। সকালের পুষ্টিকর নাশতা একদিকে শরীরে জোগান দেবে বাড়তি শক্তি, অন্যদিকে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকেও ঠিক রাখবে দীর্ঘসময়।
  • কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ কখনো বেশি আবার কখনো কম থাকে। প্রায় আট ঘণ্টার মতো অফিসে সময় দিতে হয়। এই দীর্ঘসময় কাজের ফলে অফিসে শরীরে ক্লান্তি ভর করা স্বাভাবিক। ব্যাংক, এনজিও , সংবাদিকতা, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তারসহ আরো অনেক পেশা রয়েছে, যেখানে কাজের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। যাদের বাড়তি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাদের উচিত প্রতি একঘণ্টা পরপর ৫-১০ মিনিট করে হাঁটা। এতে রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে। কাজের একঘেয়েমি দূর হয়।
  • অনেকেই আছেন যাদের লম্বা সময় ধরে কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। তাদের খেয়াল রাখতে হবে, অবশ্যই কম্পিউটারের উচ্চতা যেন চোখের সঙ্গে সমান করে রাখা হয়। অধিক সময় টাইপ করলে হাতের কনুই চেয়ারের দুপাশের হাতলে রেখে নিতে পারেন।
  • অকুপেশনাল থেরাপিস্ট এর মতে, চেয়ারের পেছনে কোমরে যথাসম্ভব ঠেস দিয়ে বসুন, ফাঁকা জায়গা রাখবেন না। কুঁজো বা বেঁকে থাকবেন না। হাতের কনুই দেহের কাছাকাছি থাকবে, মাথা-ঘাড় ও কাঁধ সোজা থাকবে। বাহু, কবজি ও হাত মেঝের সমান্তরালে থাকবে। চেয়ারের দূরত্ব এমন হবে না যে ডেস্ক, টেবিল বা কম্পিউটারের নাগাল পেতে কষ্ট করতে হয়। পিঠ চেয়ারে ভালোভাবে হেলান দিয়ে সোজা হয়ে বসে কাজ করুন।
  • মাঝে মাঝে অবশ্যই কিছুক্ষণ বিরতি নিতে হবে। এ সময় কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে রাখুন। আবার মাঝে চোখে–মুখে পানির ঝাঁপটা দিয়ে নিতে পারেন। এতে কিছুটা সতেজ লাগবে নিজেকে।
  • কাজ করতে করতে অনেক সময় একঘেয়েমি চলে আসতে পারে। কাজের ফাঁকে একটু চা বা কফি পান করে নিজেকে চাঙ্গা রাখা যেতে পারে। অফিসের লাঞ্চ টাইমে চেষ্টা করুন সহকর্মীদের সঙ্গে একসঙ্গে খেতে। খাওয়ার সময় বিভিন্ন মজার বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন। এতে দেখবেন মনটা হালকা হবে। তবে সবসময় মনে রাখতে হবে কাউকে বিরক্ত করা যাবে না একদম। নিজের কাজ ফেলে বা আরেকজনের কাজের মাঝে তাকে মোটেও বিরক্ত করবেন না।
  • নিজের কাজের ডেস্ক রাখুন পরিষ্কার ও সবুজ। এমনিতেই লম্বা সময়ের কাজে মন বিষিয়ে উঠতে পারে। তার উপর নিজের ডেস্ক যদি থাকে এলোমেলো তাহলে আরো বেশি অস্থিরতা কাজ করবে। এই অস্থিরতা দূর করতে ও মনকে সতেজ রাখতে অফিস ডেস্ক গুছিয়ে রাখুন। ডেস্কে থাকতে পারে বিভিন্ন শোভাবর্ধক ইনডোর প্ল্যান্ট।
  • আবার অফিস থেকে ছুটি নিতে পারেন একদিন নিজের জন্য। নিজেকে সময় দিন আলাদা করে। আর তা না চাইলে বন্ধুদেরকেও ছুটিতে সঙ্গী করতে পারেন। ঘুরে আসুন প্রকৃতির মাঝ থেকে। এতে ক্লান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি কাজে নতুন উদ্যম খুঁজে পাবেন।
  • নিজের কাজের ধরন আর চাপের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে খুঁজে নিন আপনার কান্তি দূর করার উপায়, উপভোগ করুন অফিসের লম্বা মুহূর্তগুলো। প্রাণবন্ত হয়ে কাজ করতে পারলে সে কাজে সাফল্যও আসবে দ্রুত। 

আরো পড়ুন: