৫৫ বছর বয়সেও যেভাবে ফিট জেনিফার অ্যানিস্টন   

পর্দায় জেনিফার অ্যানিস্টন মানেই মুগ্ধতা। তা হোক না তিনি আমেরিকান সিটকম ‘ফ্রেন্ডস’ এর চটপটে ফ্যাশনিস্তা র‍্যাচেল গ্রিন বা ‘দ্য গুড গার্ল’ এর একঘেয়ে স্ত্রী।  ‘ড্রপডেড গর্জিয়াস’ এই হলিউড অভিনেত্রীকে দেখে বোঝার উপায় নেই এ বছর পঞ্চান্নতে পা দিয়েছেন তিনি।

তাইতো অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা ও জনহিতকর কার্যক্রমের পাশাপাশি জেনিফারের ওয়ার্কআউট রুটিনও থাকে ভক্তদের আলোচনায়।

সপ্তাহে চারদিন ওয়ার্কআউট

শরীর ঝরঝরে ও রোগমুক্ত রাখতে সপ্তাহে অন্তত চার থেকে পাঁচবার ওয়ার্কআউট করেন জেনিফার অ্যানিস্টন। এক সাক্ষাৎকারে নিজেই জানান, কাজের শিডিউল অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে ওয়ার্কআউট রুটিনে বদল আসে তাঁর।

ঘণ্টাব্যাপী শরীরচর্চা করা ধাতে নেই জেনিফারের। সঠিক উপায়ে করা গেলে, মাত্র ২০ মিনিটের ওয়ার্কআউট রুটিনেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। জিমে গিয়ে যদি ব্যায়াম করাটা সম্ভব নাও হয়, জেনিফার চেষ্টা করেন হাঁটার মাধ্যমে তা পুষিয়ে নিতে। অর্থাৎ একেবারে বিরত না থেকে, ‘কিছু একটা’র মাধ্যমে সক্রিয় থাকার নীতি মেনে চলেন তিনি।

মেদ ঝরানো নয়, মাংসপেশির সুস্থতা

২০২১ সালে পিঠের ইনজুরিতে ভোগেন জেনিফার। সে সময় শরীরচর্চার ধরন একেবারেই বদলে ফেলেন। যুক্ত হন পারসোনাল ইভোল্যুশন নামে সম্পূর্ণ নতুন একটা প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে। পি. ব্যান্ড, গ্লাইডার ও অন্যান্য মেশিনের সাহায্যে এখানে ওয়ার্কআউট করা হয়, যা মাংসপেশির সক্রিয়তায় ভূমিকা রাখে।

জেনিফার অ্যানিস্টনের শরীরচর্চার আরেকটি বিশেষত্ব হলো, তিনি ফুল-বডি ওয়ার্কআউট করে থাকেন। সব মিলিয়ে এই ‘মার্ডার মিস্ট্রি’ অভিনেত্রী মনে করেন, তরুণ বয়সের চেয়ে তিনি এখন অনেক বেশি ফিট।

আগেই বলেছি, জিমনির্ভর ওয়ার্কআউটে সীমাবদ্ধ থাকেন না জেনিফার। ইয়োগা, পিলাটিস, রেসিস্ট্যান্স ট্রেনিং, হাইকিং, হাঁটা এবং দৌড়ানো সবকিছুর সমন্বয়ে শরীরচর্চা করে থাকেন তিনি।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেসব ডায়েট অনুসরণ করা হয়ে থাকে, তার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি হলো ইন্টারিমিটেন্ট ফাস্টিং। এই ডায়েট অনুসরণকালে আপনি শুধু একটা নির্দিষ্ট উইন্ডো পিরিয়ডের মধ্যে খেতে পারবেন। যেমন আপনার সুবিধা অনুযায়ী, দিনে যেকোনো ৮ ঘণ্টা খাবেন আর বাকি ১৬ ঘণ্টা কোনো রকম ক্যালরি গ্রহণ করতে পারবেন না। যদিও এ সময় লো ক্যালরি যুক্ত খাবার খেতে পারবেন। 

জেনিফার অ্যানিস্টন নিজেও ১৬:৮ ইন্টারিমিটেন্ট ফাস্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছেন। সকাল ৯টায় ঘুম থেকে উঠে আগে গ্রিন জুস পান করেন তিনি। এরপর সরাসরি চলে যান ওয়ার্কআউট ও মেডিটেশন সেশনে। ওয়ার্কআউট শেষে ব্ল্যাক কফি পান করেন। উইন্ডো পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে বারবার হারবাল টি, ব্ল্যাক কফি, ফলের রস ইত্যাদি পান করে থাকেন।

শাকসবজি আর প্রোটিনে ভরপুর থাকে জেনিফারের দুপুরের খাবার। দুপুর একটা থেকে দেড়টার মধ্যেই লাঞ্চ সেরে নেন তিনি। ডিনারেও থাকে একই খাবার।

ডিম খেতে ভালোবাসেন জেনিফার

এই অভিনেত্রীর খাবারের তালিকায় ডিম থাকতেই হবে! সকালের নাস্তায় শেইকের সাথে অ্যাভোকাডো আর ডিম তাঁর ভীষণ পছন্দের।

এছাড়াও শরীরে পানিপ্রবাহ বজায় রাখতে জেনিফার দিনভর প্রচুর পানি পান করেন। তিনি এতো বেশি পানি পান করেন যে তাঁর নিজেরই নাকি মাঝেমধ্যে অদ্ভুত লাগে! 

দুই খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে মুখরোচক কিছু খাওয়া খুব একটা স্বাস্থ্যকর হিসাবে বিবেচনা করা হয় না। কিন্তু পঞ্চাশোর্ধ্ব জেনিফারের মনে করেন, স্ন্যাকসও স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠতে পারে, যদি তা ঠিকভাবে গ্রহণ করা যায়। তিনি দিব্যি দুপুরের খাবারের পর আপেল, পপকর্ন, আমন্ড বাটার ইত্যাদি খেয়ে থাকেন। আবার মাঝরাতে কখনো খিদে পেলে ফ্রোজেন ইয়োগার্টের ওপর গ্রানোলা মিশিয়ে খেতেও পছন্দ করেন তিনি।

তথ্যসূত্র: পিংকভিলা